স্বৈরশাসক মুসোলিনির প্রপৌত্র কি সফল হবেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসলেই সবার আগে অ্যাডলফ হিটলারের নামই আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও জার্মান এই স্বৈরশাসক জড়িত ছিলেন, তবে সেখানে কেবল সৈনিকের ভূমিকাই পালন করেছিলেন। হিটলারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আরেক স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির নাম সব জায়গাতেই প্রচলিত। ইতালিয়ান স্বৈরশাসক মুসোলিনির প্রপৌত্র রোমানো ফ্লোরিয়ানি মুসোলিনি আবারও ডাক পেয়েছেন দেশটির ফুটবল টুর্নামেন্ট সিরি আ'তে। রাজনীতি পছন্দ না করলেও রোমানোর পেছনে অষ্টেপৃষ্ঠে রয়েছে সেটি। ইতালিতে সেজন্য আলোর মুখ দেখছেন না এই ফুটবলার। তাতে দ্বিতীয়বারের মতো ডাক পেলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া রোমানোর ফুটবলযাত্রা শুরু হয়েছিল রোমার যুবদল থেকে। পরে তিনি লাৎসিওর অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে চুক্তি করেন। চুক্তির পরে দলটির জার্সিতে তার মাঠে নামা হয়নি। একবার হেলাস ভেরোনার বিপক্ষে লাৎসিওর স্কোয়াডে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হয়নি। তাতে এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন রোমানো। ২০২৪-২৫ মৌসুমে জুভে স্তাবিয়ার হয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছিলেন। এরপর তাকে স্থায়ীভাবে কিনেছিল ক্লাবটি। কিন্তু লাৎসিও পুনরায় কেনার শর্ত কাজে লাগিয়ে আবারও দলে টেনে নেয় এই ডিফেন্ডারকে।

গত দুই মৌসুমে রোমানো ইতালির নিম্ন বিভাগের ক্লাব পেসকারা ও জুভে স্তাবিয়ার হয়ে খেলেছেন। গেল মৌসুমে স্তাবিয়ার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭টি ম্যাচ খেলেন এই ডানপাশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। তবে মৌসুমের মাঝপথে তাকে বিব্রতও হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চেসেনার বিপক্ষে গোল করার পর স্তাবিয়া সমর্থকদের একটি অংশ স্বৈরশাসক স্যালুট' দিয়ে উদযাপন করেছিলেন, পরে সেটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এই ঘটনার পরে রোমানোকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্তাবিয়া কর্তৃপক্ষ। সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে লাৎসিও।

রোমানো মুসোলিনির পারিবারিক ইতিহাস বহুল আলোচিত। এই ফুটবলার আলেসান্দ্রা মুসোলিনি ও মাউরো ফ্লোরিয়ানির তৃতীয় সন্তান। তার মা আলেসান্দ্রা ইতালির 'সোশ্যাল অ্যাকশন' নামের রক্ষণশীল দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং একসময়ে সংসদ সদস্যও ছিলেন। রোমানোর প্রপিতামহ বেনিতো মুসোলিনি ১৯২২ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মুসোলিনি একটি ফ্যাসিস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। পরিবার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও রোমানো নিজে কখনোই রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।