পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ‘প্রস্তুত’ মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের সেই ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিপক্ক এই দলটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘আফ্রিকার ব্রাজিল’ হিসেবেও।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন যে, ‘তার দল এই বড় মঞ্চে জ্বলে উঠতে এবং একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও শক্তিশালী ব্রাজিলিয়ান লাইনআপ সামলানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পিএসজির পিএসজির রাইট ব্যাক অকপটে বলেন, ‘সবারই জানা আছে ব্রাজিল দল কেমন। ভিনিসিউসের গুণাবলী সম্পর্কেও আমরা সচেতন। আমি ওর বিপক্ষে অনেকবার খেলেছি, ও নিঃসন্দেহে দারুণ একজন খেলোয়াড়।’
ভিনিসিউস এবং অন্যান্য ব্রাজিলিয়ান তারকাদের রুখতে ব্যক্তিগত কৌশলের চেয়ে দলগত সংহতির ওপরই জোর দিলেন হাকিমি, ‘ব্রাজিলের সব খেলোয়াড়ই বিশ্বমানের। তাদের বিপক্ষে লড়তে হলে আমাদের রক্ষণভাগকে দলগতভাবে কাজ করতে হবে এবং পরিষ্কার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমরা এমন ম্যাচের জন্যই নিজেদের প্রস্তুত করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও আত্মবিশ্বাসী যে, আগামীকাল আমরা সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারব।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসের সফলতম দল ব্রাজিলের বিপক্ষে সমানতালে লড়ার বিষয়ে হাকিমি বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে ভালো করেই চিনি। ব্রাজিলের ইতিহাস এবং তাদের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে আমাদের দলেও দারুণ সব প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আফ্রিকায় অনেকেই আমাদের ‘আফ্রিকার ব্রাজিল’ বলে ডাকে। আমাদেরও নিজস্ব শক্তি আছে।’
মরক্কোর সমর্থকদের সমর্থনে এবারের বিশ্বকাপে দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখছেন হাকিমি, ‘পুরো মরক্কোর সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা বিশ্বাস করি এবারের বিশ্বকাপে আমরা দারুণ কিছু করতে পারব এবং আগামীকাল জয়ের মাধ্যমেই যাত্রাটা শুরু করতে চাই।’
২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। তবে আপাতত সেমিফাইনাল বা তার চেয়ে বড় কিছু নিয়ে ভাবছেন না হাকিমি।
তার ভাষায়, ‘আমরা এখন শুধু আগামীকালকের প্রথম ম্যাচটির ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই এবং লক্ষ্য হলো গতবারের চেয়ে আরও ভালো কিছু করা। আপাতত লক্ষ্য একটাই—আগামীকালের ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় তুলে নেওয়া।’
সংবাদ সম্মেলনে মরক্কো কোচ ওয়াহবি দলের প্রস্তুতির বিষয়ে বলেন, ‘দলের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। আমরা আত্মবিশ্বাসী—আমাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং যে আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে আমরা কাজ করছি, তার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমরা নিজেদের সামর্থ্য কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা ভালো অবস্থানে আছি এবং ম্যাচ থেকে ম্যাচে নিজেদের আরও উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় আবদে এজালজুলি ও নায়েফ আগুয়ের্দের ইনজুরি নিয়ে ওয়াহবি বলেন, ‘দলের বাকি সবাই পুরোপুরি ফিট এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। যদিও ইনজুরির কারণে দুজনকে আমাদের বদলাতে হয়েছে, কিন্তু তাতে আমাদের পরিকল্পনায় খুব বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ বলেই যে আমরা আমাদের খেলার মৌলিক দর্শন বদলে ফেলব, তা নয়। আমরা যে নীতিতে বিশ্বাস করি, তাতেই অটল থাকব।’
শিষ্যদের জন্য মরক্কো কোচের এই দৃপ্ত উচ্চারণ কেবল অনুপ্রেরণাই নয়, বরং দলের মানসিক শক্তিতে এক নতুন মাত্রাও যোগ করেছে। প্রথম ম্যাচের কঠিন পরীক্ষার আগে খেলোয়াড়দের এই অটল আত্মবিশ্বাস যেন মরক্কোর ডেরায় এক অন্যরকম জয়ের স্পৃহা ছড়িয়ে দিয়েছে।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর—ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তারা মাঠে নিজেদের এই দর্শন ও রণকৌশল কতটা সফলভাবে কাজে লাগাতে পারে।

