কক্সবাজারের টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী দ্বীপবাসী। দ্বীপের সাধারণ মানুষ, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
মঙ্গলবার শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়ায় সড়কের ভাঙা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে উত্তর পাড়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার বিচ্ছিন্ন সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে আসা দ্বীপের স্কুল শিক্ষক নুর হোসেন বলেন, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে উত্তর পাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক বিগত সাত বছর ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২০১২ সালে পশ্চিমের বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে সড়কটি বিলীন হয়ে যায়। এখন বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে, জোয়ারের পানিও ঢোকে না, তবু সড়কটি দ্রুত সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই। দ্বীপের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক। কিন্তু এ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার বিলীন থাকায় দ্বীপের বাসিন্দাদের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই। কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুল হক জানায়, সাত বছর অপেক্ষায় আছি পাঁচ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক সংস্কারের। সড়কের ভাঙা এই অংশটি দ্বীপের ব্যবসা বাণিজ্য, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনসহ সবক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দক্ষিণ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের চিকিত্সা সেবার জন্য এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ)র নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, টেকনাফ-সাবরাং হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫.১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির দরপত্র একদফা বাতিল হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। তবে তারাও যাতায়াত খরচের জন্য ৯ শতাংশ টাকা দেখিয়েছে। দরপত্রটি সুপারিশ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশ কমিটি অনুমোদন দিলে কাজটি দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।