এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার বায়ুমানে ব্যাপক উন্নতি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিন দিন বায়ুদূষণের মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে। দূষিত শহরের তালিকায় বেশির ভাগ সময়ই শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে অবস্থান করে রাজধানী ঢাকা। তবে আজ বায়ুদূষণের বিশ্বের ১২৫ টি শহরের তালিকায় শীর্ষ ২০-এ নেই মেগাসিটি ঢাকা।

গত দুই দিনের তুলনায় রাজধানীর শহরের বাতাসে ক্ষতিকর কণার পরিমাণ আজ অনেকটাই কম। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ৭৬ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘সহনীয়’ পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

একই সময়ে, ১৬০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। এখানকার বাতাসের মান নাগরিকদের জন্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’। এছাড়াও একই তালিকায় ১৪৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে  ব্রাজিলের শহর সাও পাওলো। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাতারের রাজধানী দোহার স্কোর ১৪৫ এবং রাজধানী ঢাকা ৭৬ স্কোর নিয়ে ২৪তম অবস্থানে রয়েছে।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের গুণমান নির্ধারণের একিউআই স্কেল অনুযায়ী ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ মাঝারি, ১০১-১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, ৩০১ বা তার বেশি একিউআই স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশের একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নাগরিকদের জন্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে কম বের হতে বলা হয়েছে। শহরে সবুজায়ন ও গাছপালা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।