বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে এখন মিরপুরের উইকেট। রান কম হয়েছে, ব্যাটাররা ছন্দ হারিয়েছেন, বল আচমকা নিচু বা লাফিয়ে উঠেছে-এমন কারণে পাকিস্তান দল বেশ ভুগেছে। এ কারণে সফরকারীরা মিরপুরের উইকেটের দিকে আঙুল তুলেছেন।
পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনের মতে, এই ধরনের উইকেট বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। তার স্পষ্ট বক্তব্য, 'এ রকম উইকেট গ্রহণযোগ্য নয়।' শুরুটা ভালো হলেও সেটি ফখর জামানের ব্যক্তিগত দক্ষতার ফল বলেই মনে করেন তিনি। উইকেট সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়াটাই ছিল বিপদের শুরু, এমনটা জানিয়ে হেসন বলেন, পিচ আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসায় ব্যাটাররা মানিয়ে নিতে পারেননি। সঙ্গে যোগ হয়েছে বাজে সিদ্ধান্ত, রান আউট, এবং ঝুঁকিপূর্ণ শটের মিছিল।
পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে অনেকটা নির্বিকার বাংলাদেশ দলের তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তার বক্তব্য, উইকেট নিয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা মনে হয়নি। বরং তিনি মনে করেন, 'আমরা যদি পুরো ২০ ওভার খেলতাম, ১৬০-১৭০ রান হতো।' ইমনের মতে, পার্থক্যটা উইকেট নয়, মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়। 'হতে পারে ওরা মানিয়ে নিতে পারেনি, আমরা চেষ্টা করেছি।' মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং এবং দলের সম্মিলিত প্রয়াসকেই বাংলাদেশ দলের সফলতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ইমন।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাও উইকেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, 'বাংলাদেশে খুব কমই উন্নত উইকেট পাওয়া যায়।' সঙ্গে তিনি নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাও মেনে নিয়েছেন এবং বলছেন, তাদের স্ট্রাইক রোটেশনের ঘাটতি এবং পরিকল্পনার অভাবই ছিল ভরাডুবির মূল কারণ।
এদিকে সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও অধিনায়ক লিটন কুমার দাস মিরপুরের উইকেট নিয়ে সাবধান করেছিলেন। তার কথা ছিল, মিরপুরে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট খুব কমই পাওয়া যায় এবং যদি তা না-ও হয়, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু লিটনের শঙ্কা অনুযায়ী প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অতটা বাজে উইকেটের দেখা মেলেনি। যেখানে বাংলাদেশ দল সাবলীলভাবে ব্যাটিং করেছে, সেখানে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পেছনে কেবল উইকেট দায়ী এমনটা প্রাসঙ্গিক নয় বলে অনেকে মনে করছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠে আসে, মিরপুরের উইকেট কি সত্যিই আন্তর্জাতিক মানের বাইরে? নাকি এটি কেবল বিদেশি দলগুলোর মানিয়ে না নেওয়ার ব্যর্থতা? হেসনের মন্তব্য যেমন পরিকল্পনার ঘাটতি, মানিয়ে না নেওয়ার ব্যর্থতা তুলে ধরছে, তেমনি পারভেজ ইমন যেন জানিয়ে দিচ্ছেন-এই উইকেটেই খেলা সম্ভব, যদি কৌশল ঠিক থাকে। সালমান আগার কথাতেও সেটির ইঙ্গিত মিলেছে। এর আগে মিরপুরের উইকেট নিয়ে বাজে অভিজ্ঞতা থাকলেও সম্প্রতি সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।