প্রার্থিতা ফেরাতে আরও ২৩৫ জনের আপিল

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়দিনে আরো ২৩৫ জন আপিল করেছেন। এছাড়া মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন একজন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী। মনোনয়ন বৈধ-অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার শেষ দিন আজ। বুধবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কমিশন প্রাঙ্গণের অস্থায়ী বুথে আবেদন করার সুযোগ পাবেন নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা। কাল বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচন ভবনে আদালতের আদলে শুনানি শুরু করবে ইসি। গতকাল পর্যন্ত প্রার্থিতা ফিরে পেতে কমিশনে আবেদন করেছেন ৩১৯ জন। আপিলের প্রথমদিন গত সোমবার ৮৪টি আবেদন জমা পড়ে।

গতকাল ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬৮টি আপিল হয়েছে। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে মোট ৫৬ জন তাদের মনোনয়নপত্রের বৈধতার জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়া, সিলেট বিভাগে ১৫, রাজশাহী বিভাগে ২২, রংপুর বিভাগে ২৮, বরিশাল বিভাগে ১২, খুলনা বিভাগে ১৮ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬টি আবেদন জমা পড়ে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অস্থায়ী বুথে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আবেদন জমা নেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। ঋণ খেলাপি, আয়কর রিটার্ন না দেওয়া, স্বাক্ষরে গরমিল ও ফৌজদারি মামলায় সাজার কারণে বাতিল হওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সবচেয়ে বেশি আপিল জমা পড়ে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও তালিকায় গরমিল থাকায় আপিল করেন অধিকাংশ প্রার্থী। তবে আপিল জমা নেওয়ার দ্বিতীয় দিন প্রথম দিনের তুলনায় অনেকটা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। মূলত কমিশন ভবনের সামনে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা বুথ তৈরি করে দেওয়ায় প্রথম দিনের তুলনায় অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে আপিল জমা দেন প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা হওয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে আপিল করা প্রার্থীদের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও ছিলেন।

জাপার প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া নিয়ে জটিলতা:জাতীয় পার্টি-জাপার সদ্য পদচ্যুত মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রত্যয়নে নির্বাচনে অংশ নিতে জাপার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় এখন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন কে দেবেন, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। কাগজে কলমে বিভিন্ন আসনে জাপার চূড়ান্ত প্রার্থী কে, সে সিদ্ধান্ত জানানোর এখতিয়ার হাওলাদারের কাছেই রয়ে গেছে। গত ২৬ নভেম্বর জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ইসিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে মহাসচিব (তত্কালীন) হাওলাদারই তার দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তারপর ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাওলাদারের প্রত্যয়নেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন লাঙ্গলের ২৩৩ জন প্রার্থী; তারমধ্যে ১৫৫ জন ইসির বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার পর জাপার চূড়ান্ত প্রার্থী কে থাকছেন, তা হাওলাদারে স্বাক্ষরে ইসিকে জানানোর কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে গত সোমবার ওই পদে বসান এরশাদ। এখন হাওলাদারের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইলে তা আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিকে জানাতে হবে জাপার। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী ও স্বাক্ষর জমা দিতে হবে দলটিকে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগেরও মহাসচিব নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।