ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিকে ঘটনা অনুসন্ধান করে এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয়ে একটি নীতিমালাও তৈরি করতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। যা খুবই দুঃখজনক। কেন এগুলো বন্ধ হচ্ছে না? হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত ওই কমিটিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার নিচে নয় একজন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, মনোচিকিত্সাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞকে রাখতে বলা হয়েছে।
গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রী অধিকারী (১৫)। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শাখার শিক্ষার্থী ছিল সে। বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে এ ঘটনায় অরিত্রীসহ তার পিতা-মাতাকে স্কুলে ডেকে এনে ভর্ত্সনা এবং তাকে টিসি দেওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় বাসায় গিয়ে ঐ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে বলে গণমাধ্যমকে জানান অরিত্রীর পিতা দিলীপ অধিকারী। এ নিয়ে গতকাল দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনগুলো হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন নাহার সিদ্দিকা ও জেসমিন সুলতানা। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে অরিত্রীর আত্মহত্যার মত ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
পরে ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, শুনানিকালে হাইকোর্ট এ ধরনের ঘটনা দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের বয়োঃসন্ধিকালে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর নিয়োগের পদ তৈরি এবং নিয়োগের বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি নীতিমালা তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।