পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিশ্বাস করেন যে, আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। ছয় দিনের লন্ডন ও মাল্টা সফর শেষে গতকাল বুধবার দেশে ফিরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগকারী প্রিয়া সাহার বিষয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে—প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। বরং তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অগ্রগতির ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে। আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মিয়ানমারের ওপর। এই প্রত্যাবাসন ‘লোক দেখানো’ হবে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমি লোক দেখানো মনে করি না। প্রক্রিয়াটি শুরু হবে এবং আমি সেটাতে বিশ্বাসী। রোহিঙ্গারা যেতে না চাইলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।
প্রিয়া সাহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সেখানে চার জন প্রতিনিধি ছিলেন। তবে প্রিয়া সাহা সরকারি প্রতিনিধি দলে ছিলেন না। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের পর তা নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়ে দেন, প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতারে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে না। বরং তাকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত সরকার।
অপর এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে তথ্য দিয়েছেন তা ভিত্তিহীন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি মডেল। বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দেশ নেই যেখানে সব ধর্মীয় উত্সবে সরকারি ছুটি সকল ধর্মের মানুষই ভোগ করে।