ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরও ডেঙ্গু রোধ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ গ্রহণে গাফিলতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান চালায়।
দুদক সূত্র জানায়, দুদক টিম দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশক নিধনে ওষুধ ক্রয় ও প্রয়োগ সংক্রান্ত নথিসমূহ খতিয়ে দেখে। পরে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে ১০টি স্থানে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের তমা কনস্ট্রাকশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলের মমতাজ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শেখ রাসেল টাওয়ারের তমা কনস্ট্রাকশনকে নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের নিচে পানি জমিয়ে রেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করার কারণে সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও দুদক টিমের পক্ষ হতে সিটি করপোরেশনের জনবল ও সরঞ্জামাদি বৃদ্ধি, এনটোমোলজি পদে নিয়োগ প্রদান, মশক নিধনের ওষুধ বৃদ্ধিকরণ এবং প্রয়োজনবোধে এনজিও, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি দ্বারা মনিটরিং করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ শরীফ আহমেদ দুদকের এ অভিযানকে স্বাগত জানান।
এদিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক। এ হাসপাতালের চিকিত্সকরা নিয়মিত কর্মস্থলে আসেন না এবং হাসপাতালে নার্স বা ব্রাদাররা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে দুদকে একটি অভিযোগ আসে। ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম এ অভিযান চালায়। দুদক টিম অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। দুদক সরেজমিনে দেখতে পায় যে তিনজন ডাক্তার নিয়মিতভাবে হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও দুই জন নার্স ২০ বছর ধরে একই হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। ঐ ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক টিমের পক্ষ হতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করা হয়।