গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত তিন পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ কথা জানিয়েছেন।
নয়াদিল্লির দাবি, ইসলামাবাদ সমর্থিত পাকিস্তানি নাগরিকরা কাশ্মীরের মনোরম পাহাড়ি অঞ্চল পহেলগামের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি উপত্যকায় গুলি চালিয়ে আশেপাশের পাইন বনে পালিয়ে যায়।
এই হামলার ফলে নয়াদিল্লি পাকিস্তান এবং পাকিস্তানি কাশ্মীরে হামলা চালায়। এর ফলে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চার দিনের তীব্র লড়াই শুরু হয় এবং পরে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনার সময় সংসদে অমিত শাহ বলেন, 'আমি সমগ্র জাতিকে বলতে চাই যে, এই তিনজন সন্ত্রাসীই আমাদের নাগরিকদের হত্যা করেছিল এবং এখন তিনজনকেই হত্যা করা হয়েছে।'
ভারতীয় সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, গতকাল সোমবার কাশ্মীরের একটি জঙ্গলে তীব্র গোলাগুলিতে এই তিন জন নিহত হয়েছেন।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কাশ্মীরের হামলাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। পাকিস্তান এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, ভারতের কাছে 'অনেক প্রমাণ' আছে যে, নিহত 'সন্ত্রাসীরা' পাকিস্তানি ছিল। কারণ নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দু'জনের পাকিস্তানি ভোটার পরিচয়পত্র এবং পাকিস্তানে তৈরি চকলেট উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের কাছে থাকা রাইফেলগুলো এপ্রিলের হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
রয়তার্স জানিয়েছে, অমিত শাহের মন্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাশ্মীর অঞ্চল। উভয় দেশেওই এই অঞ্চলের ওপর তাদের তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দু'টিতে মারাত্মক লড়াই করেছে। উভয় দেশই এই অঞ্চলের সম্পূর্ণ মালিকানা দাবি করলেও আংশিকভাবে শাসন ক্ষমতা দখল করে আছে।