মাসুদুজ্জামান
এখন মানুষ বড় কাঁদছে। মানবতা বিপন্ন। ভেতরে ভেতরে আমাদের রক্ষক্ষরণ হচ্ছে। কেননা, আমরা ক্রমশ মধ্যযুগীয় বর্বর যুগে ফিরে যাচ্ছি। এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করে যে কোনো একটা সেতু নির্মাণ করতে মানুষের মাথা লাগে! ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে কী গণহিংস্র হয়ে কাউকে খুন করা যায়? একজন বিপন্ন নারী বা প্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই অমানবিক হিংস্র ঘটনার ভিডিও তুলতে হবে? এও তো আরেক ধরনের ঠান্ডামাথার হিংস্রতা! মানবিকতার বিষয়টা কি আমাদের হূদয়-মন থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে? যাঁরা এসব করছেন, তাঁদের অনেকেই ফেসবুকে আছেন। ফেসবুক ব্যবহার করেন। তাঁদের ভিডিও করার প্রবণতা থেকেই এটা বোঝা যায়। প্লিজ, এভাবে ভিডিও না তুলে প্রতিরোধ করেন। যদি প্রকাশ্যে প্রতিরোধ না করতে পারেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান অথবা কাছের থানায় গিয়ে বা ফোনে খবর দেন, রাস্তায় টহলরত পুলিশকে জানান। একটা কিছু করেন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করবেন না। নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন না। আর কিছুতেই কোনোরকম গণহিংস্র ঘটনার সময় নিজে হিংস্র হয়ে উঠবেন না। আপনি মানবিক হোন, একজন ব্যতিক্রমী মানুষ হোন। গড্ডলপ্রবাহে ভেসে যাবেন না। আমি জানি, আমার এই কথাগুলি অরণ্যে রোদন হয়েই থাকবে হয়তো, কিন্তু চারপাশে যা ঘটছে, তার শিকার যে একসময় আপনি হবেন না, তার গ্যারান্টি কিন্তু নেই। আসুন আমরা মানবিক হই, আমরা প্রতিরোধ করি, আর কিছু না হোক, প্রতিরোধ করার জন্য পুলিশকে খবরটা পৌঁছে দিই। গণমাধ্যম, বিশেষ করে টেলিভিশনগুলোকে বলব, আপনারা এই গণহিংস্রতার বিরুদ্ধে মানুষের বিবেক জাগানিয়া প্রচারণায় নামুন। নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বাঁচান। আর যারা এসব অপরাধ করছে, তাদের বিচারের আওতায় এনে খুব দ্রুত বিচার করে প্রয়োজনে প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি দিন।
শাহীন জামাল
ভাবতে অবাক লাগে এই দেশের মানুষই ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজের জীবন দিয়ে ভাষা রক্ষা করেছিল। ৭১ সালে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। এখন মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটাও ভুলে গেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই সবাই জানে। তারপরও এতগুলি মানুষের কেউ বাধা দিল না। অথচ যারা তুবার মাকে হত্যা করেছে তাদের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। ছিল শুধু লাঠি। তুবার মায়ের যদি পোষা কুকুর তখন তার পাশে থাকত, কুকুরটিও নিজের জীবন বিপন্ন করেও মনিবকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করত।
জিনাত নাসরীন
মন্তব্য করার কোনো ভাষা নাই। মানুষকে পশুর সাথে তুলনা করা বন্ধ করতে হবে। পশুকে এত নিকৃষ্ট হতে বোধ করি কখনো কেউ দেখেনি!
দন্ত্যস রওশন
একটি মেসে থাকি। সকালবেলা দরোজায় টোকা পড়িল। দরোজা খুলিয়াই দেখি, সামনে বাঘ। কহিল, হালুম ...ঘরে কি আর কোনো পশু আছে?
মালুম হইল এইবার জান শেষ।
বলিলাম, ‘পশু? পশু তো সুন্দরবনে আছে। আপনি লোকালয়ে আসিয়া ভুল করিয়াছেন।’
আমার কথা শুনিয়া বাঘ দাঁত বাহির করিল। বলিল, ‘আমার সঙ্গে মশকরা করিতেছেন? আপনি পশু নন? বাড্ডায় তাসলিমাকে কে খুন করিয়াছে? আমরা না আপনারা? আমরা পশু ঠিকই তবে আপনাদের মতো মানুষ দেখিয়া বড় লজ্জা করিতেছে। আপনার ঘাড়ে কামড় বসাইতেও আমার গা ঘিনঘিন করিতেছে। আসি...!’
বাঘ বিদায় নিতেই আমার নিদ্রা ভঙ্গ হইল।