অ্যাশেজের নামার আগে দুই দল দুই মেরুতে অবস্থান করছে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে। একদিকে ইংল্যান্ড বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ খেলতে নামবে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে পরাজয়ের যন্ত্রণা নিয়ে নামবে মাঠে। এই হতাশা পেছনে ফেলে এখন অ্যাশেজের দিকেই চোখ দিতে চাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্স।
কামিন্স বলছেন, টেস্ট সবসময় তার প্রিয় ফরম্যাট। আর এই ফরম্যাটে ফেরার আগে তিনি সব হতাশাই ভুলে যেতে পারছেন, ‘বিশ্বে এমন বোলার খুব বেশি পাবেন না, যে বলবে যে, সে টেস্টের চেয়ে ওয়ানডে বেশি পছন্দ করে। টেস্ট ক্রিকেটে সবসময়ই উইকেটে বোলারদের জন্য একটু বেশি কিছু থাকে। লাল বল বেশি সুইং করে এবং লম্বা সময় ধরে শক্ত থাকে। আমি দিনে ২০ ওভার বল করা এবং ব্যাটসম্যানের চিন্তা এলোমেলো করে দেওয়ার এই লড়াইটা খুব পছন্দ করি। টেস্ট ক্রিকেটে একটা ম্যাচে অনেকগুলো অধ্যায় থাকে। আর এটাই আমার প্রিয় খেলা।’
টেস্ট থেকে ওয়ানডেতে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে ওয়ানডে খেলে টেস্টে মানিয়ে নেওয়াটা কামিন্সের কাছে সহজ মনে হয়। এবার অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে তাই করতে হবে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর নামতে হবে টেস্ট খেলতে। ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে আয়োজিত একটা প্রস্তুতি ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করে কামিন্স প্রমাণ করেছেন, তিনি মানিয়ে নিতে প্রস্তুত হয়ে গেছেন। কামিন্স এই প্রস্তুতি ম্যাচে ক্যামেরন ব্যানক্রফট, স্টিভ স্মিথ ও পিটার হ্যান্ডসকম্বসহ পাঁচ জনকে আউট করেছেন। ১১ ওভারে ২৪ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী কামিন্স মনে করেন, এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার এক ঝাঁক ফাস্ট বোলার খুব ভালো ছন্দে আছেন। ফলে নির্বাচকদের জন্য এখান থেকে পাঁচ বা ছয় জনকে বেছে নেওয়াটা খুব কঠিন কাজ হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, একটা পাঁচ টেস্টের সিরিজে পুরোটা সময় একই দল খেলে যাবে, এটা আশা করাও কঠিন।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া দলে রায়ান হ্যারিসের বদলি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কামিন্স। সেই কথা মনে করে তিনি বলছিলেন, ‘২০১৫ সালের সেই সফর সম্পর্কে আমার এটাও বেশি মনে আছে যে, আমি খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। আমি মনে করছিলাম যে, আমি সিরিজের শেষ দিকে হলেও একটা টেস্ট খেলার সুযোগ পাব। আমি মনে করছিলাম, খেলতে পারাটা একটা বোনাস হবে। কারণ, দলের সাথে থাকাটাই খুব রোমাঞ্চকর ছিল। এর আগের বছর আমরা অ্যাশেজ জিতেছিলাম। পরের বছর অ্যাওয়ে সিরিজে নিজেই খেলতে পারা বড়ো একটা ব্যাপার ছিল।’