নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুলের হাট

ফজরের নামাজ পড়ার জন্য যখন মুসুল্লিরা ঘুম থেকে ওঠেন, সে সময় রুটি-রুজির দায়ে কিছু মানুষ নদী পাড়ি দেন। শীতের কুয়াশা ঠেলে মাথায় ফুলের বোঝা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। কেউ চাদর কেউ লুঙ্গি কেউবা ভারী পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন ফুলের ডালি সাজিয়ে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তারা এখানে আসেন। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের জেলা ক্লাব সংলগ্ন মার্কেটের পুরো ফুটপাত জুড়ে প্রতিদিন বসে অস্থায়ী ফুলের হাট। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই হাট। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা।

বিভিন্ন প্রজাতি আর রং-বেরঙের ফুলের গন্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে ফুটপাত। গাঁদা, শিউলি, করবী, চন্দ্রমল্লিকা, অপরাজিতা, বিভিন্ন জাতের জবা যেমন: ঝুমকো জবা, রক্ত জবা, হাইব্রিড জবা ইত্যাদিসহ আরও অনেক রকমের ফুল এই হাটে বেশি দেখা যায়। ঋতুভেদে ফুলের চাহিদা ও জোগান কমবেশি হয়। দেশীয় ফুল ছাড়াও বিদেশি ও সৌখিন ফুল যেমন জারবেরা, গ্লাডিওলাস এখানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয়। ফুলের সঙ্গে সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা, বিয়ে ও শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের বিভিন্ন উপাচার দূর্বা, বেলপাতা, আমসরা, পাটখড়ি, যজ্ঞডুমুর ইত্যাদি এই বাজারেই পাওয়া যায়। পিছিয়ে নেই ফল বিক্রেতারাও। ঢুলি-চাঙারিতে, কেউ কেউ মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে সাজিয়ে বসেন হরেক রকম ফল। এখানে বোতলে করে গরুর দুধও বিক্রি করেন গোয়ালারা। ফুল-ফল ছাড়াও বিভিন্ন ভেষজ গাছের পাতা ও ছাল যেমন নিমপাতা, মেহেদি পাতা, বতুয়া শাক, দণ্ডকলস, ধুতরা গোটা, ঘৃতকুমারী, অর্জুন ছাল, বাসক পাতা ও থানকুনি পাতা এই অস্থায়ী হাটে পাওয়া যায়।

এই হাটের বিক্রেতারা প্রায় সবাই আসেন নদীর ওপার বন্দর উপজেলা থেকে। বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই আবার ফুল চাষি। এসব চাষি তাদের নিজস্ব জমিতে ফুল চাষ করেন। এমনই একজন ফুল চাষি লিটন হালদার। তার বাড়ি বন্দর উপজেলার সাবদী গ্রামে। তিনি জানান, পিতার হাত ধরেই তার এই হাটে আসা। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবা মারা যাবার পর তিনিই এই পেশায় পুরোপুরি জড়িয়ে যান। তিনি জানান, পূজার মৌসুমে ফুলের চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়। শহরের আমলাপাড়া নিবাসী মলি রাণী বলেন, পুজোর ফুল-দূর্বা-ফল-দুধ সব কম দামে একজায়গায় পাওয়া যায়, তাই প্রতিদিন এখানে আসি।