ঢাকায় বায়ু দূষণের কারণ ইটভাটা ও গাড়ির ধোঁয়া

বাতাসের মানসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক দূত ড. জেমস জে শাওয়ার বলেছেন, বায়ুদূষণ রোধে বাংলাদেশের সফলতার ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতি আমাকে আশাবাদী করেছে। গতকাল ধানমন্ডিস্থ ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের টেকসই উন্নয়ন সেন্টার এবং ইএমকে সেন্টার যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আলোচনায় পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারেরসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক দূত শাওয়ার বলেন, আমি বিশ্বের ৩০ থেকে ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতিতে আমি খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, বায়ুদূষণরোধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও জরুরি।

বক্তারা বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য কারণ হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এছাড়া, ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ ভাগ বাড়িতেই রান্নার জন্য কাঠের চুলা ব্যবহার হয়। এই চুলার ব্যবহারও বায়ুদূষণের বড় কারণ। বায়ুর মান ভালো রাখতে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি ইটভাটাগুলোতে চিমনি ব্যহারের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। বক্তাদের কয়েকজন বলেন, বায়ুদূষণের সমাধান যেন আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। বায়ুদূষণ রোধে দূষণকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং রান্নার চুলার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনারও পরামর্শ দেন তারা। আবার অনেকেই এক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, বায়ুদূষণ কমাতে জ্বালানি, কাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। আগামী ১০ বছর পর ঢাকার বায়ুর কী অবস্থা হবে? সে বিষয়টি এখনই বিবেচনায় এনে পদক্ষেপ নিতে হবে। বায়ুদূষণ রোধে আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বায়ুদূষণ রোধে নির্মল বায়ু আইন নামে আইন হচ্ছে। দেশের মানুষের নির্মল বায়ু পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার রক্ষায় আইনটি হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের মতামত জানার জন্য শিগগিরই আইনের খসড়াটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।