কোরবানিকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের দুগ্ধ ভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, কাজিপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, এনায়েতপুর, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খামারিরা তাদের গবাদি পশুগুলোকে শতভাগ প্রাকৃতিকভাবে ঘাস, খড়, দানাদার খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ করছে জেলার খামারিরা। খামারিদের আশা ভারতীয় গরু কোরবানির ঈদ পর্যন্ত অনুপ্রবেশ বন্ধ অব্যাহত থাকলে গতবারের মতো এবারেও তারা লাভবান হবেন। পাশাপাশি এখানকার খামারিরা জেলার চাহিদা মিটানোর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য ৮৮ হাজার ৫৩০টি গরু এবং ৫৫২২০টি ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় প্রায় ৮০ হাজার চাহিদা মিটানোর পর বাকি পশুগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হবে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের তালুকদার ডেইরি ফার্মের মালিক বোরহান উদ্দিন তালুকদার জানান, তার ফার্মেও এ বছর ২১৫টি ষাঁড় রয়েছে। ফার্মে কর্মরত ১৯ জন নিয়মিতভাবে গবাদি পশু প্রতিপালনে কাজ করে। স্ব-উদ্যোগে খাদ্য, চিকিত্সাসহ পশু পালনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবারে ঈদ উপলক্ষে গবাদি পশুর দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি এ বছর ৫০টি ষাঁড় বিক্রি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রতিদিনই ক্রেতা ও পাইকার তার বাড়িতে আসেন গরু ক্রয় করার জন্য। তার খামারে একটি ষাঁড়ের দাম উঠেছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বগবাটি গ্রামের খামারি সুরমান আলী জানান, গত কয়েক বছর আগে নিজেদের আর্থিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবাদের পাশাপাশি নিজ বাড়িতে একটি ছোটো খামার গড়ে তোলেন। প্রথম দিকে তেমন লাভের মুখ না দেখলেও গত দুই বছর ধরে সে লাভবান হচ্ছেন। এবার ছয় মাস আগেই ১০টি গরু ৫ লাখ টাকায় কিনে মোটাতাজা করছেন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ৯ লাখ। তিনি আশা করে বলেন, এ বছর ১৫/১৬ লাখ টাকার গরু বিক্রি করতে পারবেন।
শিয়ালকোলের আব্দুর রহমান, রতনকান্দির আব্দুল হাই, সয়দাবাদের আবু ইউসুফ, পিপুল বাড়িয়ার সিদ্দীক আলী জানান, সিরাজগঞ্জের মধ্যে শাহজাদপুর এলাকায় সবচেয়ে বড়ো ও দামি গরু মোটাতাজা করা হলেও তারাও এবার বড়ো ষাঁড় পালন করছেন। চড়া দামের খড়, খৈল, ভুসি ও নালী, গমের ভাত, কাঁচা ঘাস খাবার দিয়ে এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, সিরাজগঞ্জের গো-খামারিরা পশু পালনে সচেতন। খামারিরা কোনো প্রকার ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।