সিলেটে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট থেকে নামছে বন্যার পানি। তবে এখনো চারদিকের নদী-নালা টই-টম্বুর। বৃষ্টি হলেই সুরমা, কুশিয়ারার পানি বাড়ে। সেই পানি উপচে প্লাবিত হয় ফসলি জমি। বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলে পানি কমে। এখন পানি কখনো কমছে, কখনো বাড়ছে। মাঠ এখনো কাদাজলে ভরা। এতে আউশ, আমান ও সবজি চাষিরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
যাদের একদফা ফসল নষ্ট হয়েছে—তারা এখন পানি কমার অপেক্ষা করছেন। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগে গত ৭ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ডুবে যায়। কৃষকরা জানান, কয়েক দিনের মধ্যে পানি না কমলে উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, অনেক এলাকায় ফসলি জমিতে পানি থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
এদিকে সিলেটের হাওর পাড়ের ১০ লক্ষাধিক কৃষকের স্বপ্ন পানি কমলে আবারও মাঠে ফসল বুনতে নামবেন তারা। ফলাবেন সোনালি ধান। গ্রীষ্মকালীন সবজিতে মাঠ সবুজ হবে; কিন্তু সকালে বৃষ্টি হলে দুপুরে রোদ। আবার বিকালে তীব্র রোদের পর রাতে মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। তাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে স্বল্প পরিমাণে বৃষ্টি থাকতে পারে। তবে এর পরে তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এমনকি আসাম-মেঘালয় বেল্টেও অনুরূপ অবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে, এবারের বন্যায় সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার আউশ-আমনসহ ৩ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এখনো নিমজ্জিত রয়েছে ১৯৭ হেক্টর সবজি খেত। এর ফলে উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহজাহান বলেন, এখনো এ সকল জমি পানিতে নিমজ্জিত। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি। দ্রুত পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি হয়তবা আরো কম হবে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বন্যায় সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ৩৮ উপজেলা আক্রান্ত হয়। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয় ৩ হাজার ৪৭ হেক্টর আউশ ধান। তলিয়ে যায় ৩৮৪ হেক্টর আমনের বীজতলা, ২০ হেক্টর টি আমন। ১৯৭ হেক্টর বিভিন্ন জাতের সবজি নিমজ্জিত রয়েছে এখনো। তাই সিলেটের বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে।