২০৩৪ সালে বাজেটের আকার হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার :অর্থমন্ত্রী

২০৩৪ সালে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৭টি বড় অর্থনীতির দেশকে টপকে এখন ৩৭ তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ হয়েছে। ২০৩০ সালে মধ্যে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে ২৪ তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে বাজেটর আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটের আকার ২০৩৪ সাল নাগাদ এক ট্রিলিয়ন ডলার (৮৪.৫ লাখ কোটি টাকা) হবে।

গতকাল বৃহষ্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘গুড প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ফোরামের’ সমাপনি দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এতে সভাপত্বি করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। আরো বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। এডিবির সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভালো অগ্রগতির জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে অনুষ্ঠানে। মোট দশটি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় দেশের সব গ্রামে শহরের মতো নাগরিক সুবিধা পৌছে দিতে। এর মাধ্যমে শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমে আসবে। পুরস্কৃত করার উদ্যোগ কাজের গতিকে আরো বাড়াবে। এক সময় আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প ছিল পুরোপুরি বৈদেশিক সহায়তা নির্ভর। এখন আমরা নিজেদের উদ্যোগেই অনেক প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছি।

দুই দিনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায় এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ৩শ’ কর্মকর্তা অংশ নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে। সমাপানি অনুষ্ঠানে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেছেন, উন্নত মান নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত করতে হবে। প্রকল্পের সাঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছে এর সুফল দ্রুত পৌছে দেওয়া সম্ভব। সেইসাথে প্রকল্পের খরচ কমিয়ে আনা এবং উন্নয়নকে টেকসই করা সম্ভব। বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রসংশা করে তিনি বলেন, এডিবির হালনাগাদ পুর্বাভাস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পুর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই অর্জন এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জর পরেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্জন করতে যাচ্ছে।