ওষুধ বাড়িয়ে মশা নির্মূল করতে চায় সিটি করপোরেশন

ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিয়ে অ্যাডিস মশা নির্মূল করতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। আদালতে হলফনামা দিয়ে তারা বলেছে, এখন যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে স্নায়ু দুর্বল হয়ে মশা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। কিন্তু নির্মূল হচ্ছে না। ফলে ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলে মশা নির্মূল হবে। একইসঙ্গে মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশন তিন দিন সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে চায়। সিটি করপোরেশনের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন মশা নিধনের যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে কাজ হচ্ছে না। আর আপনারা বলছেন ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলে মশা নির্মূল হবে। কোনটা সত্যি? আইনজীবীরা বলেন, নতুন ওষুধ আনতে গেলে এক মাস সময় লাগবে। এছাড়া তা পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে এই ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে মশা নির্মূলে কম্বিং অপারেশন চালাতে চাই। এজন্য সময় দিন। এরপরই বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়  দেন। এ সময়ের মধ্যে মশা নিধনের জন্য পরিচালিত সমন্বিত অভিযানের ফলাফল কি তা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। ঐ প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী আদেশ দেবে হাইকোর্ট।

দক্ষিণ সিটির মশা উত্তরে চলে যাচ্ছে:

শুনানিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তা অকার্যকর নয়। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এখন অ্যাডিস মশারা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে গেছে। এজন্য ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে তা ছিটানো হলে মশা নির্মূল হবে। তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে অভিযান না চালানোয় দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ সিটিতে মশা মারার ওষুধ ছিটালে সেই মশা উড়ে উত্তরে চলে যায়। আদালত বলেন, এটা কি সম্ভব? সদরঘাটের মশা কীভাবে উড়ে উত্তরায় চলে যায়? আইনজীবী বলেন, আমরা ওষুধ ছিটানোর ডোজ বাড়িয়ে দিনে পাঁচ-ছয় বার স্প্রে করতে চাই। কারণ এই একই ওষুধ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পাঁচ-ছয় বার ছিটানোয় সেখানে মশা নেই। আদালত বলেন, আপনারা দিনে তিন বার বা ছয় বার ফায়ার করুন সেটা দেখা আমাদের বিষয় না। আমরা চাই মশা মরুক।

ইঁদুর মারা গেলে কি হয়, মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে:

ঢাকা উত্তর সিটির আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু বলেন, নতুন ওষুধ ছিটালে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ইঁদুর বা কীটপতঙ্গ মারা যেতে পারে। আদালত বলেন, ইঁদুর মারা গেলে কি হবে? মানুষের জীবন তো বাঁচাতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে:

গতকাল আদালতে হাজির হয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরীফ আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু একটা বৈশ্বিক সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এমনটা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ চলছে। আদালত বলেন, ওষুধে মশা মরছে না কেন? ঐ কর্মকর্তা বলেন, দুটি ফিল্ড টেস্টের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ার পরই মশা মারতে এই ওষুধ আনা হয়েছে। এই ওষুধ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালত বলেন, যখন ফিল্ড টেস্ট করেছেন তখন ভালো ওষুধ দিয়েছে। আর যখন মূল চালান পাঠিয়েছে তখন দুই নম্বর ওষুধ দিয়েছে। যারা বলছেন ওষুধ ভালো তাদেরকে ধরছেন না কেন?

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, আমরা নতুন ওষুধ কিনব। পুরনো ওষুধ বদলে ফেলা হবে। এজন্য কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেলে তা দ্রুত আনার ব্যবস্থা করা হবে। আদালত বলেন, দেশের মানুষ আতঙ্কিত। ঘরে ঘরে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য যা যা করা দরকার সেটাই করতে হবে। আমরা কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা শুনতে চাই না।