হতাশায় ভুগছেন মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা যুবকরা

অস্ট্রেলিয়া, কিউবা ও নিউক্যালেনিয়ায় উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু নিয়ে আটকে রাখার পর আইওএম-এর সহায়তায় প্রচারক চক্রের মৃত্যুপুরী থেকে দেশে ফিরে হতাশায় ভুগছেন বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০১ জন যুবক। ভানুয়াতুতে প্রতারক চক্রের জিন্মিদশায় এবং সেখানকার সিআইডির হেফাজতে দুই বছর থাকার পর দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের এক সদস্য শামসুল হককে হাতেনাতে আটক করলেও তাকে কৌশলে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে বাবুগঞ্জ থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা নয়, আপস চাচ্ছে। অনেকে ফোন দিয়ে একজন লোককে আটকে রাখার অভিযোগ করার প্রেক্ষিতে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে আগামী ৫ আগস্ট সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বরিশাল অঞ্চলের ২৬ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মোট ১০১ জন যুবক ঐ দালাল চক্রকে সর্বনিম্ন সাড়ে ১১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ লাখ পর্যন্ত টাকা দেয় উন্নত দেশে যাওয়ার আশায়। এভাবে ১০১ বিদেশগামী যুবকের কাছ থেকে তারা সাড়ে ১৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের এক জন উজিরপুরের মুঙ্গাকাঠী গ্রামের ফরহাদ হোসেন খান জানান, দেশে তিনি বাবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অস্ট্রেলিয়া, কিউবা ও নিউক্যালেনিয়ায় খাওয়া-দাওয়া ফ্রি, মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন, ২ বছরের মধ্যে ঐ দেশের পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়াসহ উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখায় বাবুগঞ্জের রাহুতকাঠীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর রশিদ হাওলাদারের বড়ো ছেলে এনামুল মাস্টার ও জসিম উদ্দিন। এদের সহযোগী ছিল জসিমের স্ত্রী ও শ্বশুর শামসুল হক। বিভিন্ন দলে ভাগ   করে ১০১ যুবককে ভারত, সিঙ্গাপুর, ফিজি হয়ে ভানুয়াতুর রাজধানী পোর্টভিলায় নিয়ে আটকে রাখে প্রতারকরা। অভুক্ত রেখে নির্যাতনও করা হতো তাদের। গত বছরের ২০ নভেম্বর সকালে তাদের উদ্ধার করে ভানুয়াতু সিআইডি। পরে আইওএম-এর সহায়তায় গত ২০ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ফিরে আসে প্রতারণার শিকার ৭৫ যুবক। এখনো সেখানে ২৬ জন আছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ।

এদিকে দেশে ফিরে আসা প্রতারিত যুবকরা গত ২১ জুলাই প্রতারক জসিমের শ্বশুর মুলাদীর কাজী শামসুর রহমানকে তার জামাতার বাড়ি বাবুগঞ্জের রাহুতকাঠী পেয়ে অবরুদ্ধ করে। ঐ দিন নানা দেনদরবারের পর কৌশলে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান বাবুগঞ্জ থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস। থানায় নিয়ে উলটো ওসি প্রতারিত যুবকদের অপহরণে অভিযুক্ত করে মামলা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।

এদিকে প্রতারক কাজী শামসুল হককে হাতের নাগালে পেয়েও ক্ষতিপূরণ আদায় করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্তরা। প্রতারণার শিকার উজিরপুরের ইমরান নামে আরেক যুবক জানান, মানবপাচার এবং প্রতারণার অভিযোগে বরিশালের বিমানবন্দর এবং টাঙ্গাইলের সখিপুর থানায় জসিম ও অন্যান্য সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে আইনে সোপর্দ না করে সালিশের আশা দেখিয়ে শামসুলকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, এক জন লোককে আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে তিনি শামসুল হককে উদ্ধার করেন। পরে থানায় হাজির জন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ সময় কেউ এক জন আশপাশের তিন উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আগামী ৫ আগস্ট সালিশের প্রস্তাব দিলে উভয়পক্ষ সেই প্রস্তাব মেনে নেয়।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তারা সালিশের প্রস্তাব কিংবা সেই সালিশে তিন উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপস্থিত রাখার কোনো প্রস্তাব দেননি। এটা ওসির কারসাজি বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।