শিল্পচর্চা মানুষকে ঋদ্ধ করে ----তাসমিমা হোসেন

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, ‘শিল্পচর্চা মানুষকে ঋদ্ধ করে। তাকে মানুষ হিসেবে আরো শিক্ষিত, শিল্পিত হয়ে উঠবার পথ দেখায়। তিনি বলেন, শিল্পচর্চা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পচর্চায় রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, দিচ্ছে। রাষ্ট্র একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ করেছে। এটা শিল্পীদের কাজ করবার ক্ষেত্র দিয়েছে। রাজধানীতে এই একটিমাত্র শিল্পচর্চার কেন্দ্র। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট! আরো প্রয়োজন। পাশাপাশি সারাদেশেও শিল্পীদের কাজ করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। আমরা আশা করব, রাষ্ট্র আরো নানা সহযোগিতা দিয়ে শিল্পীদের শিল্পচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাট্যদল ‘থিয়েটার ফ্যাক্টরি’র নতুন নাটক ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’র উদ্বোধনী মঞ্চায়নের আগে বিশেষ অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাক্ষিক অনন্যা নিবেদিত এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সহযোগিতায় আদিকবি কালিদাসের জীবনভিত্তিক নাটকটি মঞ্চে এনেছে নতুন নাট্যদলটি। শিল্পের সঙ্গে ক্ষমতার যে দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব, তা উঠে এসেছে এই নাটকে। নাটকটি রচনা করেছেন ভারতীয় নাট্যকার মোহন রাকেশ। বাংলায় অনুবাদ করেছেন অংশুমান ভৌমিক। নির্দেশনা দিয়েছেন থিয়েটার ফ্যাক্টরির প্রধান কারিগর অলোক বসু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ, অংশুমান ভৌমিক ও থিয়েটার ফ্যাক্টরির উপদেষ্টা শামীম সিদ্দিকী। অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালন করে নাটকের উদ্বোধন করেন।

ফেরদৗসী মজুমদার বলেন, ভয় না পেয়ে একনিষ্ঠ হয়ে সততার সঙ্গে ভালোবেসে মঞ্চকে সম্মান দিয়ে শিল্পীরা অভিনয় করে—এটাই প্রত্যাশা। শিল্পী হিসেবে আজও প্রথম অভিনয়ের দিনটিতে বুকটা কাঁপে। আজকে যারা অভিনয় করছে তাদের অনুভূতিটা বেশ বুঝতে পারছি, তাদের ভয়টা বুঝতে পারছি। তবে ভয় থাকলেই কাজটা ভালো হয়। বেপরোয়া হলে কাজ ভালো হয় না।

অংশুমান ভৌমিক বলেন, ‘নাটকটি ভারতের আধুনিককালের প্রতিনিধিত্বকারী উল্লেখযোগ্য একটি নাটক। আমার মনে হয়েছে, নাটকটি বাংলায় অনুবাদ হওয়া প্রয়োজন। যাতে বাংলা নাটকের দলগুলো নাটকটি নিয়ে কাজ করতে পারে।’

অলোক বসু বলেন, ‘এ নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়েই এর ভালোবাসায় জড়িয়ে যাই। এর গাঁথুনি এতটাই শক্ত যে, সেটাই আমাদের পথ দেখিয়েছে। নির্দেশনার কাজ সহজ করে দিয়েছে। আমাকে শুধু সমন্বয়কের কাজটি করতে হয়েছে।’

প্রকৃতি আর প্রেম যেন কবি কালিদাসের সঙ্গে হাত-ধরাধরি করে চলে। রাজধানী উজ্জয়িনী থেকে কবি কালিদাসের ডাক আসে রাজকবি হওয়ার। প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা কবি কালিদাস তার গ্রাম ছেড়ে রাজধানী উজ্জয়িনীতে যেতে চান না। কিন্তু তার প্রেমিকা মল্লিকার ইচ্ছা রাজধানীতে যাক কালিদাস। এতে তার প্রতিভার সম্মান পাবেন তিনি। মল্লিকার অনুরোধে কালিদাস শহরে যান। ছড়িয়ে পড়ে তার কবিখ্যাতি। রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে হয়। বনে যান শাসনকর্তা। ক্ষমতা, খ্যাতি সব পেলেও সুখ অধরাই থেকে যায় কালিদাসের কাছে। তার হূদয়ে জেগে থাকে তার গ্রাম। তার কবিতায় উঠে আসে ফেলে আসা অতীত। সব ছেড়ে যখন কালিদাস গাঁয়ে ফেরেন, তখন সেখানেও সব বদলে গেছে। সময় কারো জন্যই অপেক্ষা করে না। এভাবেই এগিয়ে চলে কাহিনি।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জিতা শারমীন, শামসুন নাহার বিউটি, রামিজ রাজু, হাসানুজ্জামান খান, আর কে এম মোহসেন, সুমন মন্ডল বানি, অলোক বসু, মিশাল সমাপ্ত, সুরভী রায়, সঙ্গীতা বড়ুয়া, মাসরুরা শারমীন, কৃপা, সুরভী, জুয়েল, মোহসীন, হাসান, সুমন ও গল্প। নাটকটি আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় একই মঞ্চে মঞ্চস্থ হবে।