পানি সংকটে বন্দরবাসী

বন্দর উপজেলায় ওয়াসার পানির সংকটে ১৫ দিন যাবত্ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে বন্দরবাসী। কোথাও ওয়াসার পানি নেই। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল।

জানা গেছে, গত ১৫ দিন যাবত্ বন্দর উপজেলার রুপালী আবাসিক এলাকার ওয়াসার পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ছালেহনগর, রুপালী, বাবুপাড়াসহ আশপাশের আরো কয়েকটি এলাকার মানুষ বেশি সমস্যায় রয়েছে। এলাকায় ওয়াসার গাড়ি এলেই এলাকাবাসী পানির জন্য রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কার আগে কে পানি নিতে পারে—এমন প্রতিযোগিতায় অনেক সময় মারামারিও বেঁধে যায়। ছালেহনগর এলাকার লাভলী বেগম বলেন, সকাল হতেই পানি সংগ্রহ করতে কলসি-বালতি নিয়ে ওয়াসার পানির গাড়ির দিকে ছুটতে হয়। তবে যতটুকু পানি দেওয়া হয় তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। একারণে প্রতিদিন পানি সংগ্রহের জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা করতে হয়। অনেকে তাই ওয়াসার গাড়ির উপর নির্ভর না করে দূর-দূরান্তের বিকল্প উত্স থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে খুব একটা ফল হচ্ছে না। অবস্থাপন্নরা দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে পান করছেন, রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। কিন্তু কতদিন! এভাবে দিনের পর দিন পানি কিনতে হলে যে রাজার ভান্ডারও শেষ হয়ে যাবে। পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে এলাকায় পৃথক ওয়াসার পাম্প স্থাপনের বিকল্প নেই বলে মনে করেন অধিকাংশ মানুষ।

তানিয়া নামে আরেকজন বলেন, আমরা দিনের পর দিন এভাবেই পানি সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি, অথচ জনপ্রতিনিধিরা একদিনও আমাদের কোনো খোঁজ নেননি। তিনি প্রশ্ন রাখেন— জনপ্রতিনিধিরা একদিনও কি পানি ছাড়া চলতে পারবেন? অনেকের মতে, প্রতিটি এলাকায় পৃথক ওয়াসার পাম্প স্থাপন করলে পানি সংকটের সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে একটি এলাকার পাম্প বিকল হয়ে পড়লে অন্য এলাকার পাম্প বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু নানা অজুহাতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা সেই সমস্যার সমাধান করছে না। স্থানীয় সূত্র বলছে, ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পাম্প মেরামতের কাজ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। যে কারণে দীর্ঘ ১৫ দিনেও পাম্প মেরামতের কাজ শেষ হচ্ছে না।

২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে পানির বিশাল সমস্যা। পানির পাম্প বিকল হওয়ার ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করেছি। তারা পাম্প মেরামতের কাজও শুরু করেছে। তবে কবেনাগাদ এই কাজ শেষ হবে তা স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না। দীর্ঘ ১৫ দিন যাবত্ পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্দরবাসী। কবে নাগাদ তাদের পানির কষ্ট দূর হবে, কে জানে।