‘মেধার পাচার রোধ করতে হলে একটি ‘ট্যালেন্ট হান্ট পুল’ গঠন করা জরুরি। এর মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নত দেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়ে তাদের পুনরায় দেশে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি সময়ের দাবি মেনে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম চালু করলে জনসংখ্যার চাপকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটরিয়ামে ‘নিড বেসজড এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: প্রবলেমস এন্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) এর উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরআই’র চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা কি শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করছে? দক্ষতা উন্নয়ন না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার হয়ে ঘুরছে, যা জাতীয় সংকট তৈরি করছে। শিক্ষাকে শিল্পের সাথে সংযুক্ত করে সময়োপযোগী ও বাজার-চাহিদাভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার শিক্ষা কৌশলের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ওরা যেভাবে মেধা পাচার রোধ করেছে, সেভাবে আমাদের শিক্ষানীতিতেও তা যুক্ত করতে হবে।’
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আশা করেছিলাম, আমাদের নোবেল বিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা একটা ট্যালেন্ট পুল করবেন। সেই পুল থেকে ট্যালেন্টদের বিভিন্ন দেশে পাঠাবেন। সেসব ট্যালেন্ট শিক্ষার্থী বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের জন্য উপযোগী শিক্ষা অর্জন করবেন। তারপর আমাদের ট্যালেন্টরা আমাদের, মানে তাদের নিজের দেশে ফিরে আসবেন। দেশের সেবা করবেন। তাদের পুরো পড়াশোনার খরচ দেবে সরকার। তারপর পড়াশোনা শেষে তাদেরকে উচ্চসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনবে। উপযুক্ত কাজে লাগাবে। এটাই রিভার্স ব্রেন ড্রেন। আমাদের দেশের শিক্ষার জন্য এটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।’
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এখন সময়ের দাবি। কর্মমুখী বিশেষায়িত শিক্ষা ছাড়া বিপুল তরুণ প্রজন্মকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।’ তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রতি সমাজের অবজ্ঞা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, কেবল জিপিএ-৫ ও স্নাতক সংখ্যা বাড়ানোই সবকিছুর সমাধান নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন সবাই চায় উল্লেখ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি। এই সেমিস্টার থেকে আমরা রিভাইজড সিলেবাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেছি। ইংরেজি ও আইসিটিকে ম্যান্ডেটরি করে দিয়েছি। এটা নিয়ে কোথাও কোনো আন্দোলন হয়নি। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা মেনে নিয়েছেন। মানুষ ভালো পরিবর্তন চায়।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস বলেছেন, সার্টিফিকেটের তুলনায় কর্মমুখী শিক্ষার দিকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম ও বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর ও ডায়াবেটিক সোসাইটির সভাপতি ড. একে আজাদ খান। এছাড়া সেমিনারে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) এর সদস্য সচিব সৈয়দ রেজাউনুল কবির। তিনি বলেন, ‘উত্তম রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রফেশনাল ও সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে।’