পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হচ্ছে :মান্না

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলের জন্য পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হওয়ার প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন নতুন করে পরিস্থিতি আগের চাইতে আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মান্না বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে এই নির্বাচন আদৌ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হলে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রশাসন ও পুলিশকে নিতে হবে। সবার মনে রাখা উচিত, এই সরকারই শেষ সরকার নয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ লেভেল প্লেইং ফিল্ডের ধারেকাছেও নেই। একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র হচ্ছে। ব্রিটিশ এমপিদের জন্য তৈরি হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরির গবেষণাপত্রের মূল্যায়নেও একথা বলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, এখন নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। কিন্তু মার্কা বের হওয়ার পর ঐক্যফ্রন্টকে কেউ আটকাতে পারবে না। জনগণও মা?ঠে আছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়া জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারাও এই দেশের সন্তান, আপনারা নাগরিকদের করের টাকায় বেতন পান, আমরা এমন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি-যেখানে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তার সেবক হিসেবে পাবে এবং সবাই শান্তিতে সহাবস্থান করবে। কিন্তু সেই সহাবস্থানের জরুরি পূর্বশর্ত হলো, পুলিশ বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের যে হয়রানি করছে, সেটা এই মুহূর্তেই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সদস্য ফজলুর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার, নজরুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।