নতুন উদ্যমে জাকেরদের এশিয়া কাপের স্বপ্ন

জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী অনিক যেন নতুন এক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। পাওয়ার হিটিংয়ের গোপন রহস্য খুঁজে দিতে এসেছেন জুলিয়ান উড। দুই-এক দিনের সংস্পর্শেই খেলোয়াড়দের মনোজগতে তৈরি করেছেন ভিন্ন এক উদ্দীপনা। জাকের বলছিলেন, উড নাকি বড় কোনো টেকনিক পালটাতে আসেননি, বরং প্রতিটি ব্যাটারের ভেতরে থাকা নিজস্ব স্টাইলে খুঁজে নিতে চাইছেন ছক্কার শক্তি। কারও সুইং বেসবল ধাঁচের, কারও গলফের মতো-তাদের জন্য উপায়ও আলাদা। এসব চেষ্টা এশিয়া কাপ সামনে রেখে। যেখানে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নের কথাই গতকাল বলেছেন। মিরপুরের শের-ই-বাংলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে জাকের বলেছেন নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়েও।

প্রো-ভেলোসিটি ব্যাট হাতে নিলে যে শব্দ বেরোয়, তার সঙ্গে বাড়তি শক্তি যোগ করার কথা বলেছেন জাকের। ব্যাটিংয়ে যে রোমাঞ্চ জাগে, সেটাই যেন আবার মনে করিয়ে দেন উড। ফিটনেস নিয়েও তার দীর্ঘ কথোপকথন। নাথান কেলি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের শরীরে লেগেছে নতুন শৃঙ্খলা। প্রতিদিনকার কষ্ট, ক্লান্তি, ইনটেনসিটির স্রোত-সবই তারা সহ্য করছেন। জাকেরের চোখে এটা নতুন কিছু নয়, বরং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই অভ্যস্ততা। 

তবে এবারের ক্যাম্পে ছিল খানিকটা ভিন্নতা, বাড়তি তীব্রতা। শরীরে ট্র্যাকার লাগানো, প্রতিটি খেলোয়াড়ের রিপোর্ট জমা দেওয়া-এমন পদ্ধতি ক্রিকেটারদের বাধ্য করছে নিজের সর্বোচ্চটা ঢেলে দিতে। কে আগে শেষ করলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কার এফোর্ট কতখানি, কোচের চোখে সেটাই আসল।

স্লগ ওভারের ব্যাটিং প্রসঙ্গ উঠতেই জাকেরের কণ্ঠে শোনা গেল বাস্তবতার সুর। কখনো সুযোগ আসে, কখনো আসে না। টপ অর্ডার ভালো খেললে হয়তো স্লগে তেমন প্রয়োজন হয় না, আবার কখনো ঝড় তুলতেই নামতে হয়। সেই জায়গায় আলাদা কোনো শর্টকাট নেই, শুধু নিয়মিত প্র্যাকটিস আর সাহসী মানসিকতার লড়াই। মিডল ওভার নিয়েও বললেন, ওখানেই নাকি বাংলাদেশের ব্যাটিং সবচেয়ে দুর্বল, তবে সেই দুর্বলতা কাটাতে অনেক দিন ধরেই চলছে কাজ। তার মতে, 'মিডল ওভার নিয়ে সবসময় আমাদের কাজ থাকে। এখানে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে এটা বলতে পারে অনেকে, এটা নিয়ে অনেক আগে থেকে আমরা কাজ করছি। কীভাবে উইকেট না হারিয়ে ভালো রানরেট ধরে রাখা যায়, এসব খুটিনাটি নিয়ে কাজ করছি আমরা।'

মনোবিদের প্রসঙ্গেও ছিলেন খোলা মনে। তিনি জানেন, ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বলের খেলা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও এখানে বড় অস্ত্র। বিসিবি যদি সেই সহায়তা দেয়, তবে সেটিও সাদরে গ্রহণ করতে রাজি তারা। জানা গিয়েছিল, এশিয়া কাপ পর্যন্ত কাজ করতে মনোবিদ ডেভিড স্কটের সঙ্গে বিসিবি চুক্তি করেছে। তবে কবে নাগাদ তিনি টাইগারদের সঙ্গে যুক্ত হবেন, সেটি এখনো জানা যায়নি।

এ দিকে ব্যক্তিগত লক্ষ্যর বিষয়টি জাকের বরং ছেড়ে দেন ম্যাচের প্রেক্ষাপটে। কখনো পাঁচে নামলে বড় রান, আবার ছয়ে-সাতে নামলে দ্রুত রান- এর বাইরে আলাদা কোনো স্বপ্ন আঁকেন না তিনি। তবে দলীয় স্বপ্নের ব্যাপারে ছিলেন দৃঢ়, বললেন- এশিয়া কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য কেবল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। 

ড্রেসিংরুমের প্রত্যেকেই নাকি এই বিশ্বাসে উজ্জীবিত। জাকের স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন, 'এবার এশিয়া কাপে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই যাচ্ছি। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যাচ্ছি। ড্রেসিংরুমের সকলেই এটা বিশ্বাস করেন, বিশেষ করে এখন যে পরিবেশ রয়েছে, সকলে যেভাবে চেষ্টা করছেন, তাতে সবাই বিশ্বাস করি এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যাবো।'

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে তিনি দেখেন প্রতিদিনের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। আজ যে সমস্যা, কাল সেটির সমাধান করতে হয়, আবার অন্যদিন উঠে আসে ভিন্ন কোনো দুর্বলতা। তিন ফরম্যাটে খেলা তার কাছে যেমন স্বপ্ন, তেমনি ক্লান্তিকর সংগ্রামও। শারীরিকভাবে ফিট না থাকলে সম্ভব নয় এই যাত্রা। জাকের তাই বারবার জোর দিলেন ফিটনেসেই। নেদারল্যান্ডস সিরিজকেও তিনি দেখছেন সমান গুরুত্বে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিটি জয় সমানভাবে জরুরি- এমন মনোভাবই ভেসে উঠল তার কথায়।