বেরোবিতে আমরণ অনশনরত ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, ইউজিসির সভা বৃহস্পতিবার

ছাত্রসংসদের দাবিতে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা। ৪৮ ঘণ্টার এই আমরণ কর্মসূচিতে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। 

অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে আবার আন্দোলনের যোগ দিয়েছেন। এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ শিক্ষার্থী।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের খসড়া গঠনতন্ত্রটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য পরীক্ষা ও চূড়ান্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গঠিত কমিটির সভা ২১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ইউজিসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (লিগ্যাল) শেখ আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তারা প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

গত রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। তাদের অভিযোগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদের বিষয়টি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্রসংসদ বাবদ ফি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেটে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন করছেন। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রহমানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল রাত দুইটার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় গণিত বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আরমান হোসেনকে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নয়ন মিয়া বলেন, ছাত্রসংসদের দাবিতে আমরণ অনশনে এখন পর্যন্ত ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাত্রসংসদের রোডম্যাপ ঘোষণা না করে কালক্ষেপণ করছে।

এ সময় শিবলি সাদিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৩৬ ঘণ্টা থেকে আমরণ অনশন করছিলাম। আমরা চাচ্ছিলাম, ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবৃতি দিক। উপাচার্য বিবৃতি দিয়েছেন। ১০ কার্যদিবসের সময় চেয়েছেন তিনি। আমি এটার সঙ্গে একমত। আমার শারীরিক পরিস্থিতিও খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ওয়াদা দিয়েছে, তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে আমি অনশন ভাঙছি।’