নৈতিক স্খলনের দায়ে চাকরিচ্যুত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের ব্যাংক টাউনের এলাকার একটি ফ্লাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল মিঞা নিশ্চিত করেছেন।
মাহমুদুর রহমান জনি (৩৬) কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার হারুয়া গ্ৰামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
মাহমুদুর রহমান জনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এর আগে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর মাহমুদুর রহমান জনি ও একই বিভাগে সে সময় সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। যেখানে বলা হয়, এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।
একইসঙ্গে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩ ব্যাচের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে জনির আপত্তিকর এবং অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও প্রকাশ্যে আসে। যেখানে মাহমুদুর রহমান জনির কন্ঠে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর কথা বলতে শোনা যায়।
এছাড়া জনির সঙ্গে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অশালীন চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাবার পর তার বিরুদ্ধে গঠিত হয় স্ট্রাকচার্ড কমিটি।
এরপর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।