ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনে একটি বহুতল ভবনের ৭ তলায় একটি ফ্ল্যাটের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনায় ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত দুইটার দিকে কেরানীগঞ্জের মডেল টাউন আবাসিক এলাকার মুক্তার তালুকদারের মালিকানাধীন ১০তলা ভাড়াটিয়া ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মোহাম্মদ মামুন (৪৫), তার স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৮) ও দুই ছেলে মো. মিহাদ (১৬) এবং সিয়াম হোসেন (১২)। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে আহত লাকি আক্তারের বোন ফারিহা আক্তার জানান, বছরখানেক ধরে তার বোনের পরিবার ওই ভবনের অষ্টম তলায় বসবাস করছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে হঠাৎ ঘর তীব্র ধোঁয়ায় ভরে যায়। ধোঁয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরা শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জানা যায়, নিচের সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে এসি বিস্ফোরণের ধোঁয়া ওপরে উঠে তাদের ঘরে ঢুকে পড়ে।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত চারজনের গলা ও বুকে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাদের থুথু কালো রঙের হচ্ছে, হাত পাও কালচে হয়ে গেছে। তারা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকা থেকে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন এসেছেন। চারজনকেই ইনহেলেশন বার্ন (ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসে প্রবেশজনিত জটিলতা) হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে আছেন।
কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাসান উল আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ দগ্ধ হননি। তবে ধোঁয়ায় কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি বিস্ফোরণ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।