চৌমুহনী উপজেলার ছাতারপাইয়া ও তুলাতলি খালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন যাবত্ ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খাল দুটি এখন অস্তিত্বসংকটে। জঞ্জালপূর্ণ খালে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন। কিছুদিন আগে খালে ডুবে একটি শিশুও মারা যায়।
চৌমুহনী নোয়াখালী জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ছাতারপাইয়া ও তুলাতলি খাল দুটি শহরের মধ্যস্থান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। চৌমুহনী শহরের দক্ষিণ প্রান্তে নোয়াখালী খালের সাথে সংযোগ হয়ে শহরের দক্ষিণ বাজার, মাইজ বাজার, কালীতলা ও কলেজ রোডের পাশ দিয়ে ১২ কিলোমিটার উত্তরে অপর খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে ছাতারপাইয়া খাল। অপরদিকে, শহরের কেন্দ্রস্থল বড়ো পোলের কাছে চৌমুহনী ছাতারপাইয়া খালের সঙ্গে মিলিত হয়ে পূর্বদিকে চৌমুহনী-ফেনী সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত তুলাতলি খালটি শহর ছেড়ে বেগমগঞ্জের দুর্গাপুর, কুতুবপুর ও রছুলপুর ইউনিয়ন অতিক্রম করে ফেনী জেলার তুলাতলি খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ খালের চৌমুহনী শহরের নাপিতের পোল থেকে পূর্বদিকে রছুলপুর ইউনিয়ন ছাড়িয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার জুড়ে ঘনজঞ্জাল ও আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে আছে। কিছুদিন আগে জমিদারহাট নামক স্থানে ১০/১২ বছরের একটি শিশু পুলের ওপর থেকে পড়ে খালে ডুবে মারা যায়।
চৌমুহনী শহরের ব্যবসায়ী আবুল খায়ের, মাহবুবুর রহমান, ইফতেখার হোসেন, দুর্গাপুরের, আবুল কালাম, কুতুবপুরের গোলাম মাওলা, জসিম উদ্দিন, লাতু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, রছুলপুরের আবদুল ছাত্তার, আবুল কাশেম জানান, খালের জঞ্জাল ও আবর্জনার কারণে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া খাল দিয়ে পানি নামছে না। আবর্জনার কারণে খালে মাছের বিচরণও আর নেই। খাল পাড়ের বাসিন্দারা ময়লার দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে চৌমুহনী পৌরসভার সচিব আইয়ুম উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর মনছুর আহমদ রিপন, শাহাবুদ্দিন কাজন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবেদ সাইফুল কালাম, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হিরণ, রছুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হোসেন সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা খালে জঞ্জালের কারণে নানাভাবে ক্ষতির কথা স্বীকার করে জানান, জঞ্জাল পরিষ্কার করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত কোনো ফান্ড না থাকায় কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।