রাঙ্গুনিয়ায় মরিয়মনগর ডিসি সড়ক বেহাল

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর চৌমুহনী থেকে ইসলামপুর গাবতল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ডিসি সড়ক। চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের এ সড়কে বাস ও অটোরিকশার নিয়মিত সার্ভিস  রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার  দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ সড়কটি। ট্রাক, মাইক্রোসহ অন্যান্য পরিবহনের হালকা ও ভারী  যানবাহন এ সড়কে চলাচল করে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষায় এটি অন্যতম গুরুত্ব সড়ক।

এলাকার স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, সব পেশাজীবী মানুষের নৈমত্তিক যাতায়াত ছাড়াও এলাকায় উত্পাদিত কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণে এ সড়কে পরিবহন করা হয়। ভাটা থেকে ইটবোঝাই ও নানা ব্যাবসায়িক পণ্যের ভারী যানবাহন এ সড়কে চলাচল করে। সর্বস্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যস্ততম  খুবই গুরুত্ববহ সড়কটি এখন বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে খানখন্দকে ভরে গেছে। পিচ উপড়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে।  যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধতা দেখা দিয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ  অবস্থায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হোসনাবাদ, রাজানগর, ইসলামপুর, দক্ষিন রাজানগর, লালানগর, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এবং  পারুয়া ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা ও জেলা সদরসহ সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা ও পরিবহন ব্যবস্থায় সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের বিভিন্নস্থানে বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে। উভয় পাশে দোকানপাট ও নানা স্থাপনার মধ্যে সড়কের পাশে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। দোকানপাট ছাড়াও পুরো সড়কের বিভিন্নস্থানে খানা খন্দকে ভরে গেছে।

ধামাইরহাট বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, সংস্কারের অভাবে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। বাজারের স্থানে-নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এর ওপর যানবাহন চলাচলে সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। যাতায়াতে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্তমানে বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে পিচ আর ইট উপড়ে কাদায় একাকার হয়ে পড়েছে। মানুষের যাতায়াতে  দুর্ভোগ বেড়েছে।  যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ  হয়ে পড়েছে। সড়কের শান্তিনিকেতন বাজার এলাকায়ও একই অবস্থায় মানুষের ভোগান্তি চলছে।

বাজারের ব্যবসায়ী সামশুল আলম বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে সম্প্রতি সড়কের কয়েক স্থানে সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হলেও তা তেমন স্থায়ী হয়নি। বৃষ্টি হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে গেছে। গাড়ি চলতে সড়কের  কাদাপানি ফুটপাত ও  দোকানে ছিটকে পড়ে।

দক্ষিণ রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ সৈয়দ জানান, মরিয়মনগর ডিসি সড়ক বেহাল হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সর্বস্তরের মানুষ। দুই পাশে সম্প্রসারণ ব্যবস্থাসহ সড়কটির উন্নয়ন করা দরকার।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, উপজেলার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মরিয়মনগর ডিসি সড়কের বেহাল অবস্থায় সার্বিক যোগাযোগে ভোগান্তি রয়েছে। এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। 

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী শহীদুল আলম বলেন, মরিয়মনগর ডিসি সড়কের সংস্কার কার্যক্রম প্রকল্পভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্নস্থানে মেরামত কাজ চলছে। বর্ষার পরে পুরোদমে কাজ করা হবে।