রান তাড়ায় নেমে বিপাকে বাংলাদেশ

লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়ি ম্যাচের প্রথম ভাগটা রাঙালেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহ গড়ে দিতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন কুশল পেরেরা। ক্রিকেটিয় চেতনাকে সম্মানিত করা কুশল মেন্ডিসের ‘ওয়াক’ এর অপূর্ব ঘটনাও মঞ্চায়িত হয়েছিল গতকাল বিকেলে প্রেমাদাসার ২২ গজে।

স্বাগতিকদের এমন দাপটের দিনে অবশ্য বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডাররা বিশ্বকাপের ছায়াকে দূরে সরাতে পারেননি। মূলত ইনিংসের ৩২ ওভারের পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ  ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। সাড়ে তিনশোর বেশি রানের সম্ভাবনা জাগানো লঙ্কানদের ৩১৪ রানে (আট উইকেটে) আটকে রাখতে পারা কিছুটা সফলতা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে গতকালও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের মাঝে ক্যাচ মিসের ভূত বহাল ছিল। ২৯ রানে কুশল মেন্ডিসের ক্যাচ ফেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

জয়ের জন্য ৩১৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারছে না বাংলাদেশ। মালিঙ্গার করা ইনিংসের প্রথম পঞ্চম বলেই বোল্ড হয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক তামিম (০)। অষ্টম ওভারে মিঠুন (১০) এলবির ফাঁদে পড়েন। গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮ ওভারে ২ উইকেটে ৩০ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই শফিউল ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দোকে (৭)। অধিনায়ক করুনারত্নে-কুশল পেরেরার ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। করুনারত্নে ৩৬ রান করে ফিরেন। একপ্রান্ত আগলে তোপ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন কুশল পেরেরা। মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তার ১০০ রানের জুটি ভাঙে ইনিংসের ৩৩তম ওভারে। সৌম্যর বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে কুশল পেরেরা ৯৯ বলে ১১১ রান (১৭ চার, ১ ছয়) করেন।

তারপরই মূলত স্বাগতিকদের রানের লাগাম কিছুটা টেনে ধরতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। ৩৪তম ওভারে রুবেলের বলে ‘ওয়াক’ করেন কুশল মেন্ডিস। রুবেলের বলে মুশফিকের মৃদু আপিলে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু নিজে থেকে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা ধরেন মেন্ডিস। তিনি ৪৩ রান করেন। পঞ্চম উইকেটে অভিজ্ঞ ম্যাথুস-থিরিমান্নে ৬০ রানের জুটি গড়েন। থিরিমান্নে ২৫ ও ম্যাথুসের ৪৮ রানে তিনশো পার হয় লঙ্কানদের স্কোর। ধনঞ্জয়া ১৮ ও নিজের বিদায়ি ইনিংসে মালিঙ্গা ৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে শফিউল তিনটি, মুস্তাফিজ দুটি, সৌম্য-রুবেল-মিরাজ একটি করে উইকেট নেন।