হারিসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বাসিত, বললেন ‘লাঠিপেটা করা উচিত’

টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়ার পর বাবর আজমকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার পাকিস্তানের তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হারিসের মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী। বাবরের স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন তোলায় হারিসকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর থেকেই পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাচ্ছেন না বাবর আজম। এরপর চারটি সিরিজ খেললেও ডাক পাননি তিনি। এমনকি আসন্ন এশিয়া কাপের স্কোয়াডেও নেই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি এই রান-সংগ্রাহক।

তবে বাবরের বাদ পড়ার কারণ অনেকটাই স্পষ্ট- তার স্ট্রাইক রেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে পাওয়ারপ্লের সময় থেকেই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করেন বেশিরভাগ টপ অর্ডার ব্যাটার, সেখানে বাবরের ব্যাটিংয়ে গতি আসে অনেক দেরিতে। থিতু হতে হতে প্রায়ই শেষ হয়ে যায় পাওয়ারপ্লে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাবরের মন্থর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মোহাম্মদ হারিসকে। সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার কি মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে বাবরের ব্যাটিংয়ের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আনা উচিত?’ উত্তরে ২৪ বছর বয়সী হারিস এক শব্দে বলেন, ‘হ্যাঁ।’

এরপর সঞ্চালক হাসতে হাসতে জিজ্ঞাসা করেন, ‘দ্রুত নাকি ধীরগতির ব্যাটিং?’ হারিসও হাসতে হাসতে বলেন, ‘দ্রুতগতির’ শুধু এটুকুই নয়, তরুণদের সুযোগ করে দিতে বাবরসহ সিনিয়রদের সরে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

এই মন্তব্য ভালোভাবে নিতে পারেননি সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলী। ইউটিউব চ্যানেল ‘দ্য গেম প্ল্যান’-এ তিনি বলেন, ‘বাবর আজমের ব্যাটিংয়ে কোথায় উন্নতি করতে হবে, তা নিয়ে কথা বলছে মোহাম্মদ হারিস। ওকে তো লাঠিপেটা করা উচিত। বাবর আজমকে নিয়ে কথা বলার তুমি কে? বাবর যদি এখনো (পাকিস্তান দলের) অধিনায়ক থাকত, তাহলে কি সে এই কথা বলতে পারত?’

বাসিতের সঙ্গে একমত হয়েছেন কামরান আকমলও। পাকিস্তানের সাবেক এই উইকেটকিপার মনে করেন, খেলোয়াড়দের কীভাবে কথা বলতে হয়, তা শেখানোর দায়িত্ব পিসিবির। 

তিনি বলেন, ‘কোথায় কার সম্পর্কে কী বলতে হবে এবং কীভাবে বিতর্ক এড়িয়ে চলতে হবে, খেলোয়াড়দের সেই প্রশিক্ষণও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে দিতে হবে।’

বাবর আজম এখন টি-টোয়েন্টি দলে না থাকলেও মোহাম্মদ হারিস নিয়মিত মুখ। চলতি বছর ১৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৫৪.৯৭ স্ট্রাইক রেটে ২৬৫ রান করেছেন তিনি। তবে শেষ ছয় ম্যাচে একবারও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তবুও এশিয়া কাপের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন এই তরুণ।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান সুপার লিগে বাবরের দল পেশোয়ার জালমিতেই খেলেন হারিস। মাঠের বাইরের এই বিতর্কে দুই সতীর্থের সম্পর্ক কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা এখন দেখার বিষয়।