দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশ সফরে এলো নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল। সর্বশেষ ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে তারা এসেছিল ঢাকায়। প্রায় ১১ বছর পর এবার সিরিজ খেলতে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখল ইউরোপের এই দল। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরপরই দুপুরের ফ্লাইটে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয় সফরকারীরা।
এবারের সিরিজের বিশেষত্ব হলো, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই প্রথমবার নিজেদের ঘরের মাঠে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ সালে ডাচদের মাটিতে দুই ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিয়েছিল টাইগাররা। ফলে সিরিজটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন অধ্যায় বলাই যায়।
বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের এটি তৃতীয় সফর। প্রথমবার তারা আসে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে, যেখানে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল দলটি। এরপর ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সিলেট ও চট্টগ্রামে সাতটি ম্যাচ খেলেছিল ডাচরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার তারা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসেছে, যা শুরু হবে ৩০ আগস্ট সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পরের দুটি ম্যাচ ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সব কয়টি ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা ছয়টায়।
মূলত ভারতের বিপক্ষে আগস্টে পরিকল্পিত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সরকারের অনুমতি না মেলায় ভারত সফরটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। সেই শূন্যতা পূরণেই বিসিবির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশ দল এরই মধ্যে সিলেটে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০ আগস্ট থেকে সেখানকার অনুশীলন ক্যাম্প চলছে, তার আগে ঢাকাতেও প্রায় ১০ দিন ঘাম ঝরিয়েছে লিটন দাসরা।
গতকাল সিলেটে পৌঁছানোর পরে আজ দুপুর ও আগামীকাল সন্ধ্যায় অনুশীলনের কথা রয়েছে ডাচদের। বিপরীতে বাংলাদেশ অনুশীলন করবে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। আর আগামীকাল দুপুরে অনুশীলন শেষে শনিবারে মূল ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে টাইগার বাহিনী।
এই সিরিজ শুধু বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস লড়াই নয়, বরং এশিয়া কাপের প্রস্তুতিরও বড় অংশ। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের এশিয়া কাপ মিশন, তার আগে এই সিরিজই তাদের ম্যাচ অনুশীলনের সেরা সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে বিষয়টিতে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছিলেন দেশের এইচপি দলের ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ। তার মতে, সিলেটে ম্যাচ খেলা ও অনুশীলন বাংলাদেশের জন্য বেশ কাজে দেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে লিটন কুমার দাসরা একই ধরনের উইকেট পাবেন বলে তিনি মনে করেন।