কথা না বলে কাজে মন দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী-মেয়রকে আহ্বান কাদেরের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে জনগণকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এ ব্যাপারে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। একটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে। দুটি সিটি করপোরেশনকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে এ রোগের বাহক অ্যাডিস মশার বিরুদ্ধে ‘সামাজিক লড়াই’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গুকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বেশি কথা না বলে অ্যাডিস মশা মোকাবিলার কাজে মনোনিবেশ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সবার কথাবার্তায় সংযত হওয়া উচিত। আমরা অনেক সময় দায়িত্বহীন কথা বলে থাকি। সকলের দায়িত্বশীল কথা বলা উচিত। ডেঙ্গু অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমরা যে নিজেদের দায়িত্ব উপেক্ষা করব এটার কোনো সুযোগ নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম শুধু আমাদেরই ডেঙ্গু। কিন্তু এখন দেখছি তা চীন, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন এমনকি ভিয়েতনাম পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এটা এখন আর কোনো দেশীয় রোগ নয়। দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবেও এর প্রকোপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক প্রকোপ বাড়লেও এটার হুমকি উপেক্ষা করার উপায় নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন,  আমাদের জনগণকে আমাদেরকেই বাঁচাতে হবে। আমাদের জনগণ ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগে আছে, আতঙ্কে আছে। মশার উপদ্রব থেকে জনগণকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। আসলে সমন্বিতভাবে আমাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে। তাই সকলকেই সতর্ক হতে হবে। যারা এটা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে তাদেরকে বলি, আসুন আমরা সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলি। এটি বিপজ্জনক মশা, এর কামড়ের ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘দল দেখে অ্যাডিস মশা কাউকে কামড় দেবে না। কাজেই সবাইকে এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে, সতর্ক হতে হবে।’ রাজনৈতিকভাবেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দলকে আমরা অন্তর্ভুক্ত করছি। সচেতনতামূলক এবং সতর্কতামূলক সভা সমাবেশ করে আমাদের দলও এ ব্যাপারে অংশ নেবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্য, গণপিটুনি, গুজব এই বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না এই বিষয়গুলো আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। এ ধরনের কোনো যোগসূত্র থেকে থাকলে তা অবশ্যই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করা হবে। তখন যা যা করা দরকার সব প্রস্তুতি সরকারের আছে।’ গুজব ও গণপিটুনি রোধে সারা দেশে আওয়ামী লীগ সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করবে জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গণপিটুনি এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটাকে পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। এর জন্য সারা দেশে আওয়ামী লীগের সকল শাখাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে সকলে মিলে সভা সমাবেশ করে সচেতনতামূলক এবং সতর্কতামূলক প্রচারে অংশ নেয়। যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি না পায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।