প্রতিবছর কোরবানির ঈদ আসতেই মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠবে, এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাস ধরেই পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়তি। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে এলাচ, দারুচিনি। এদিকে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর সবজির বাজারও চড়া। ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি নেই। কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা! সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো সুখবর নেই ভোক্তাদের জন্য। তবে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকে তারা রাজধানীসহ সারাদেশে আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে খোলাবাজারে স্বল্প মূল্যে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করবে। এতে কিছুটা হলেও ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুন, দারুচিনি ও এলাচের দাম আরো বেড়েছে। এছাড়া গত এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে, এমন পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ ও আদা। গত ১৬ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে। গতকাল বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনো তা এক মাসের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এ ব্যাপারে সরকার জোরালোভাবে বাজার মনিটরিং করছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
গতকাল বাজারে দেশি রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, মানভেদে আদা ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, এলাচ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ও দারুচিনি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। কিন্তু এক মাস আগে রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, আদা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, এলাচ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা ও দারুচিনি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এছাড়া অন্যান্য মসলার মধ্যে জিরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেজপাতা ১৫০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
এদিকে বন্যার কারণে রাজধানীর সবজিবাজারে রীতিমতো ‘আগুন’ লেগেছে। ৫০ টাকা কোজির নিচে কোনো সবজি নেই বললেই চলে। এক কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা!
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বন্যার কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদামতো সবজির সরবরাহ নেই। তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে।
গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বেগুন, করল্লা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা; পেঁপে ৫০ টাকা; টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা; শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা; চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ৭০ টাকা; ঢ্যাঁড়শ, পটোল ৫০ টাকা; কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা আমজাদ বলেন, বন্যার কারণে আড়তগুলোতে সবজি কম আসছে। যা আসছে তা-ও দাম বেশি।
তবে এক মাস ধরে ডিমের দাম বাড়তি থাকলেও গত সপ্তাহে কমেছে। গতকাল বাজারে প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হয় ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা হালি। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আগামীকাল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে টিসিবি আগামীকাল রবিবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করবে। টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, সারাদেশে ১৮৭টি ট্রাকে খোলাবাজারে স্বল্প মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, বিভাগীয় শহরে পাঁচটি ও জেলা সদরে দুটি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এছাড়া সারাদেশে টিসিবির ২ হাজার ৮২৭ জন ডিলার ও ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা, মাঝারি আকারের মসুর ডাল ৫০ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি করা হবে।