টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুত জেলেরা মুখোমুখি হয়েছে বৈরী আবহাওয়ার। ফলে সমুদ্রযাত্রা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে যেসব ইঞ্জিনচালিত দেশি নৌকা সাগরে চলে গিয়েছিল, সবগুলোই এখন আপাতত উপকূলে অবস্থান করতে হচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় এবং দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় মাছ ধরার দেশি নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ফলে ইলিশ ধরার ভর মৌসুমে জেলেদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে ২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেসব দেশি মাছ ধরার নৌকা সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল সেগুলোর অনেকগুলো ইলিশসহ অন্যান্য মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পেয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বহু মাছ আকারে বর্ধিত হয়েছে, পরিমাণে বৃদ্ধিও পেয়েছে। ফলে ঐসব মাছ ঘাটে নেমে বাজারে সরবরাহ হলেও দাম চড়া ছিল। জেলেরা জানায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না থাকলে হয়তো আগামী দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যেই শত শত মাছ ধরার নৌকা বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরে আসতে পারত। মাছের দামও এসে যেত সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে। এদিকে গত ২৩ ও ২৪ জুলাই যেসব মাছ ধরার দেশি নৌকা সমুদ্রে রওনা হয়েছিল সেগুলোর অধিকাংশ উপকূলে ও ঘাটে ফিরেছে মাছ না ধরেই। ফলে বোটের মালিক ও জেলেরা বর্তমান মুহূর্তে তাদের আর্থিক ক্ষতি নিয়েই চিন্তিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমী বায়ু প্রবাহ প্রবল হয়ে ওঠায় এবং সমুদ্রে সঞ্চারণশীল মেঘমালার বিস্তার ঘটায় সমুদ্র কার্যত এ মুহূর্তে বিপজ্জনক। কাজেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার সকল নৌযানকে চট্টগ্রামসহ দেশের সব উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। সেই সঙ্গে ভারীসহ অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারবে এমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
সামুদ্রিক মত্স্য দপ্তর চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, গত ২৩ জুলাইয়ে সব ধরনের মাছ ধরার নৌযানকে সমুদ্রে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই যে কোনো ঘাট থেকে যে কোনো সময় তাদের সমুদ্রযাত্রায় এখন কোনো বাধা নেই।