সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ

১৬ বছর চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই, নতুন নেতৃত্ব দাবি

দীর্ঘ ১৬ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন। ২০০৩ সালে থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পর আর কোনো কাউন্সিল না হওয়ায় পুরোনো কমিটি দিয়েই ঢিমেতালে চলছে দলের কার্যক্রম। অঙ্গসংগঠন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ২০০৪ সালে হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দলটি টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোনো গতি না থাকায় হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করার ঘোষণার পরও কাউন্সিলের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশ। একাধিক সিনিয়র নেতা ও তৃণমূল কর্মীরা সংগঠন গতিশীল করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া ২০০৩ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। গত ১৬ বছরে থানা আওয়ামী লীগের আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। পুরোনো কমিটি দিয়েই ঢিমেতালে চলছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন দলের কাউন্সিল না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশাও দেখা দিয়েছে। দলের সিনিয়র কয়েক জন নেতা ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সময় না দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীসহ একাধিক সিনিয়র নেতার। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন ও নতুন নতুন নেতা সৃষ্টি না হওয়ায় দলের ভেতরে ও বাইরে হতাশা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রবীণ নেতা জানান, দলীয় সুবিধা লাভের আশায় স্ব-পদে থাকতেই বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিল করেননি। দলের শীর্ষ দুই নেতার মাঝেই সংগঠনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কমিটির অন্যরা রয়েছেন নামমাত্র। তারা আরো জানান, দলে নেতৃত্ব দিতে পারে তৃণমূলে এমন যোগ্য নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও দলীয় পদ আঁকড়ে ধরে থাকতেই কাউন্সিল করছে না বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এ নিয়ে কমিটির মধ্যে কয়েক বছর ধরেই চাপা ক্ষোভ চলে আসছে।

একটি সূত্র জানায়, কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বর্তমান সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখান না বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক। গত ১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দ্রুত কাউন্সিল শেষ করতে ও কাউন্সিলের তারিখ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্সাহ দেখা দিলেও শীর্ষ নেতাদের তত্পরতা না থাকায় তৃণমূলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নেতাকর্মীরা।

এদিকে ২০০৪ সালের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগেরও কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০০৪ সালে মতিউর রহমান মতিকে আহ্বায়ক করা হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। একাই ঐ পদে থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুবিধা নিচ্ছেন বলে যুবলীগের অন্য নেতাকর্মীদের অভিযোগ। পুরোনোদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করার দাবি তৃণমূলের।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজউদ্দিন রেনু জানায়, দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। ফলে দলে সাংগঠনিক গতি নেই। সাংগঠনিক গতি আনতে দ্রুত কাউন্সিল করে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া জানান, কাউন্সিল করতে আমরা প্রস্তুত। ওপরের নির্দেশ পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্সিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল জানান, সকল থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন কাউন্সিলের তারিখ আমাদের জানালে আমরা তাতে উপস্থিত থেকে কাউন্সিল সম্পন্ন করে আসব।