বরগুনার রিফাত হত্যা, ফেনীর নুসরাত হত্যা ও কক্সবাজারের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ধর্ষণের মতো ব্যাপক আলোচিত মামলায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশেষ করে পুলিশি হেফাজতে বিভিন্ন প্রকার নির্যাতনসহ অপরাধের শিকার ব্যক্তি, যারা মামলার মূল সাক্ষী, তাদের ও পরিবারের সুরক্ষার পরিবর্তে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির ধারাবাহিক অভিযোগে গভীর হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজসে জোর করে বরগুনায় নিহতের স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে মিন্নির বাবা ও তার আইনজীবীর অভিযোগে স্থানীয় পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করে টিআইবি। ইতিপূর্বে ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একাংশের সম্পৃক্ততা ও নুসরাতকে অযাচিত হয়রানি এবং সম্প্রতি কক্সবাজার ‘মডেল পুলিশ স্টেশন’ এ ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর তিন দিন হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে বানোয়াট জবানবন্দি সংগ্রহের মতো অভিযোগ দেশের আইনের শাসনের জন্য অশনি সংকেত। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে ন্যায়বিচার তথা সার্বিকভাবে গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হিসেবে আইনের শাসনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর জবাবদিহি ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের ঘটনাগুলোর, বিশেষ করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের উত্থাপিত অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, আলোচিত অপরাধের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মী কর্তৃক আইনের লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক ও শুদ্ধাচার পরিপন্থি আচরণের মাধ্যমে একদিকে অপরাধী বা তাদের দোসরদের সঙ্গে যোগসাজসমূলক সুরক্ষা ও অন্যদিকে যারা অপরাধের শিকার তাদের নিরাপত্তা বিধানের পরিবর্তে হেফাজতে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি ও নির্যাতনের মাধ্যমে সাক্ষী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে তাকে বিচ্ছন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।