রাত আড়াইটা থেকে জরুরী বিভাগে ছিলাম, শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত: চবি সহকারী প্রক্টর

রাত আড়াইটা থেকে জরুরী বিভাগে ছিলাম; শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। রোববার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। 

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ রহমতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আনা আমার শিক্ষার্থীরা প্রায় সবাই আশঙ্কামুক্ত। রাত ২:৫৫ মিনিট থেকে আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে ছিলাম। আমি চাই এমন দিন আমার শিক্ষকতা জীবনে আর ফিরে না আসুক। মহান আল্লাহর কাছে সবার সুস্থতা কামনা করি।’

তিনি আরও লেখেন, এই তালিকায় কয়েকজনের নাম বাদ আছে, যারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় গেছেন। এখন ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি আছেন, আল্লাহর রহমতে তারাও ঝুঁকিমুক্ত।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই হাসপাতাল ছেড়েছেন। অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হলেও সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চবির সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার মধ্যরাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থার জের ধরে জোবরার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় চবির ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে এক ছাত্রী তার কক্ষে যেতে দেরি হওয়ায় দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দারোয়ান কয়েকজনকে ডেকে এনে ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে দারোয়ানকে ধরতে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয় অন্তত ১০ জন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সময় মতো বাসায় আসি। আজকেও দেরি করিনি। ১২টার মধ্যে চলে আসি। দারোয়ানকে দরজা খুলতে বলি। তবে তিনি দরজা খুলে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে জোরে ডাক দিলে তিনি অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। আমি জবাব দিতে গেলে হঠাৎ আমার গলায় চড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গে আমার রুমমেটরা নামলে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারতে থাকেন। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আমার রুমমেট ও আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।’