বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকার গরিবের সরকার নয়। দেশে আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। ত্রাণের জন্য পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে হাহাকার থাকলেও প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বসে সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা বন্যার্তদের খোঁজ খবর না নিয়েও সময়মত এলাকায় এসে ফিটা কেটে যাচ্ছেন।
শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২ বাঁধে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপি ঢাকা থেকে লংমার্চ করেছে। বিএনপি দেশের মানুষের কথা ভাবে। এ সরকার গরিব মানুষকে নিয়ে ভাবে না। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। সরকার ডেঙ্গু দমনে ব্যর্থ হয়ে ছেলেধরার গুজবের মতো ডেঙ্গু আক্রান্তকে গুজব বলছে। ডেঙ্গুতে মানুষ মরছে আর তারা বলছেন, এ গুজব নাকি বিএনপির যড়ষন্ত্র।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা শত শত মামলা মাথায় নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা-মামলা দিয়ে জুলুম-নির্যাতন করে কর্মীদের জেলে ভরে রাখছেন। তারপরও বিএনপি মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।’
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে ১৬ মাস জেলে রেখে নির্যাতন করে অসুস্থ বানিয়েছে সরকার। বর্তমানে তিনি (খালেদা জিয়া) হাঁটতে পারেন না, ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তিনি জেল থেকে নেতাকর্মীদের বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তারই নির্দেশে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার।’
আরো পড়ুন : বিএনপির অবস্থা এখন মিথ্যাবাদী রাখালের মতো: ওবায়দুল কাদের
বন্যায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্থ ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে বিএনপি। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।
এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ হেলাল, রোকন উদ্দিন বাবুল, নূরে আলম সিদ্দিক বাবুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/ইউবি