চবি সংঘর্ষ

নারী শিক্ষার্থীদের ‘ধর্ষণের’ হুমকি, নারী অঙ্গনের খোলাচিঠি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা গ্রামে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রী ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করছিলেন। স্থানীয়রা তা দেখে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন গালাগাল করেন এবং পরে ধর্ষণের হুমকিও দেন। ঘটনাটি চারদিন পর বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ্যে আসে।

চবির আইন বিভাগের এক ছাত্রী জানান, হামলার সময় তারা ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় ছিলেন। নিচে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হচ্ছিল, যা তারা ফেসবুকে লাইভ দেখাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়রা তাদের বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। দরজা ভাঙতে না পেরে হুমকি-ধমকি দিয়ে সরে যান। ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্থানীয়রা আমাদের বাসার ছবি তুলেছে, যা আরও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।’

পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রীদের নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাইদ বিন কামাল চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ছাত্রীরা নিরাপত্তায় আছেন।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ‘মোরাল পুলিশিং, ধর্ষণের হুমকি, সাইবার বুলিং ও প্রশাসনের অবহেলার’ প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার বিকেলে খোলাচিঠি পাঠ করে নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘নারী অঙ্গন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ঝুপড়িতে এই চিঠি পাঠ করেন সংগঠক সুমাইয়া শিকদার। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্য দুই সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস ও মাহবুবা সুলতানা।

খোলাচিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দারোয়ান আটকান এবং পরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর জেরে দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হন স্থানীয়দের হামলায়। ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাকে ও অন্যান্য ছাত্রীদের সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। 

এছাড়া সংগঠনটি সাত দফা দাবি জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে- আহতদের সুচিকিৎসা ও ব্যয়ভার প্রশাসনের বহন; স্থানীয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার; ক্যাম্পাসে শতভাগ নিরাপত্তা ও আবাসন ভাতা চালু; পরিবহনে ই-কার ও চক্রাকার বাস সার্ভিস; যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল সক্রিয়করণ; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ও রেলক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার;  শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মামলা করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।