চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও তাকে জোর করে হাঁটানো হয়েছে এবং ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে মামুনের বড় ভাই, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মাথার খুলি এখনো জোড়া লাগেনি। সে কাউকে চিনতে পারছে না। অথচ ফটোসেশন করে বলা হচ্ছে, সে সুস্থ। এসব দেখে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।’
এর আগে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মামুনের ছবি ও ভিডিও, যেখানে তাকে করিডরে আরেকজনের কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর স্বজন ও সহপাঠীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাঁটিয়ে ‘সুস্থ দেখানোর’ চেষ্টা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মামুনের মাথায় অস্ত্রোপচারের পর খুলি এখনো ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে। তিনি কথাবার্তা বললেও কাউকে চিনতে পারছেন না এবং মাঝে মাঝে তীব্র ব্যথায় চিৎকার করছেন। মাসুদ রানা বলেন, ‘সে শুধু বলে, ভাল্লাগে না, মইরা যাব।’
এই ঘটনায় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আতিয়ার রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছেন, মামুন হাঁটছেন এবং ছোট করে কথা বলছেন। তবে মামুনের সহপাঠীরা দাবি করেছেন, ডাক্তারদের উপস্থিতিতে তাকে জোর করে উঠিয়ে বসানো হয় এবং সেখানেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে আতিয়ার রহমান বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, রোগীকে এ অবস্থায় জোর করে হাঁটানো তার শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে একই সংঘর্ষে আহত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ এখনো লাইফ সাপোর্টে আছেন। শনিবার তার লাইফ সাপোর্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা হলেও জ্ঞান ফেরেনি। তার পরিবার জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তারা অন্যত্র নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবেন।
আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেন, ব্যয়ের দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো স্পষ্ট কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য ও প্রক্টরসহ অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন। এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।