পাখি

বউকথাকও ডাকছে পাখি

গাঁ-গ্রামের মানুষ ‘হলদে পাখি’ নামে জানলেও কোথাও কোথাও ‘সোনাবউ’, ‘বেনেবউ’ বলেও এরা পরিচিত। এদের বিচরণ বাড়ির আঙিনার গাছগাছালিতে ও বনেবাদড়ে। মধুর কণ্ঠে ডাকে ‘বউকথাকও’। এই ডাক যেন প্রকৃতির এক আহবান। সেই পাখির দেখা তেমন একটা মেলে না। দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে না, একাকী থাকে। এরা নিভৃতচারী ও লাজুক পাখি।

বউকথাকও পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Cuculusmicropterus। কোকিল গোত্রীয় পাখি পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চল, ইন্দোনেশিয়া, চীনের উত্তরাঞ্চল, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে দেখা যায়।

মাঝারি আকারের বউকথাকও পাখির স্ত্রী-পুরুষকে একই রকম দেখতে লাগে। এদের ঊর্ধ্বাংশ ধূসর এবং পিছনের অংশে কালো পালক রয়েছে। লেজ বিস্তৃত। ঠোঁট থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ২৩-২৪ সেন্টিমিটার। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও পাখায় বাদামি এবং সাদা বর্ণের সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়। এদের অক্ষিগোলক ধূসর থেকে হলুদ। চোখের মণি হালকা বাদামি থেকে লোহিত আকারের হয়ে থাকে। স্ত্রী বউকথাকও শনাক্তকরণের সহজ উপায় হলো, পুরুষের তুলনায় এদের গলা, বুক ও লেজের দিক হালকা ধূসর বর্ণের হয়। পেটের অংশটুকু সরু।

এরা বাসা বাঁধে ঝোপঝাড়ের শুকনো ডাল ও খড়কুটো দিয়ে। অগোছালো বাসা বানিয়ে বসবাস করে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের মাঝামাঝি এদের প্রজননের প্রকৃত মৌসুম। সাদা রঙের বাদামি ফোঁটা যুক্ত তিন থেকে চারটে ডিম দিয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে ডিমে তা দেয়। পনেরো থেকে সতেরো দিনে বাচ্চা ফোটায়। এরা সব রকম কীটপতঙ্গ, ফল ও ফুলের নির্যাস, পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে।

সুরেলা কণ্ঠের এই পাখিটি পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতায় গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেও আম, কাঠাঁল, লিচু, পেয়ারা সব গাছে, ফসলে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, বাসা বাধাঁর মতো পুরাতন গাছ না থাকায় এইসব পাখি কমে যাচ্ছে। এই পাখি আহার জোগাতে আম-জাম গাছেই বেশি বিচরণ করে। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে দু্?-একটি পাখি চোখে পড়ে। প্রকৃতির অপরূপ শোভা বর্ধনকারী এসব পাখি বিলুপ্তপ্রায়। পাখি সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।