নেপালে সরকারবিরোধী তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে সরকারের দমনমূলক আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন কৃষি ও পশুপালনমন্ত্রী রাম নাথ অধিকারী এবং পানি সরবরাহমন্ত্রী প্রদীপ যাদব। এর আগে, একই দাবিতে পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।
মন্ত্রী রাম নাথ অধিকারী জানান, সরকারের দমন-পীড়ন ও বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগে তিনি মর্মাহত। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি স্তম্ভিত। গণতন্ত্র মানে প্রশ্ন করার অধিকার। কিন্তু এখানে আমরা একনায়কতন্ত্রের ছায়া দেখছি।'
তিনি আরও বলেন, 'যেই প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, তাদের সঙ্গে যুদ্ধের মতো আচরণ করা হলো—এটা মেনে নেওয়া যায় না।'
এদিকে পানি সরবরাহমন্ত্রী প্রদীপ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, 'তরুণরাই আমার শক্তি, আমার প্রথম সঙ্গী। তাদের পাশে থাকার জন্যই আমি মন্ত্রিত্ব ছাড়ছি।'
বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকায় মঙ্গলবারই পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক সমাধান নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সোমবার থেকেই রাজধানী কাঠমাণ্ডু ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মঙ্গলবার মারা যান ২ জন।
প্রতিবাদকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাও। রাজনৈতিক দলের একাধিক কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়—এই যুক্তিতে তারা ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এদিকে সংঘর্ষে মৃত্যুর পর কারফিউ জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।