যে অর্থেই দেখা হোক না কেন, বর্তমান শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে ৯১ রানে হারাটা বাংলাদেশ দলের জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যাপার। যদিও বাংলাদেশ এই সিরিজে তার সেরা দলটা খেলাতে পারছে না। তারপরও শ্রীলঙ্কার তরুণ ও অগোছালো দলের বিপক্ষে জয়টাই প্রত্যাশিত ছিল। বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন অবশ্য কোনো অজুহাত দিলেন না। তিনি বললেন, দুই বিভাগেই শ্রীলঙ্কার চেয়ে খারাপ খেলায় এই ফলাফল হয়েছে। তবে বাকি দুই ম্যাচে জিতে সিরিজে ফেরার আশা ছাড়ছেন না এখনো তিনি।
সুজন মনে করেন, আজকের ম্যাচে ভালো করে সিরিজে সমতা আনার যথেষ্ট যোগ্যতা তার দলের আছে। সেই কথা বলতে গিয়ে কোচ বলছিলেন, ‘আমি মনেকরি ম্যাচ হারলে কখনোই ভালো লাগে না। তারপরও আমাদের সুযোগ আছে। যদি আমরা কালকের ম্যাচে ভালো করতে পারি, তাহলে কামব্যাক করতে পারব। আমি মনেকরি আমাদের সামর্থ্য আছে। আমি বিশ্বাস করি আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।’
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে সেই জয় পেতে একাদশে কোনো পরিবর্তন আনতে চান না কোচ। তিনি বলেছেন, প্রথম ম্যাচে সেরা একাদশই খেলেছে, ‘আমার মনে হয় না কোনো পরিবর্তন দরকার। প্রথম ম্যাচে আমরা সম্ভাব্য সেরা দলটাই নামিয়েছিলাম, সেই বিশ্বাসটা রাখতে হবে। পরিবর্তনের কথা আমরা চিন্তাই করিনি। আমি বিশ্বাস করি পরিবর্তন কোনো ইতিবাচক ফল সব সময় নিয়ে আসে না।’
নিজেদের পরাজয়ের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে সুজন বলছিলেন, বোলিংয়ে কিছুটা সময় ভালো করলেও সবমিলিয়ে দুই বিভাগে খারাপ করেছে দল, ‘আমি মনেকরি শুরুর দুইটা জায়গাতেই আমরা ভালো করতে পারিনি, ব্যাটিংয়ে ও বোলিংয়ে। একটা সময় মনে হয়েছিল ওরা ৩৭০-৮০ করবে, কিন্তু তা হয়নি। একটা জায়গায় অন্তত ভালো ছিলাম। শেষ ১০ ওভারে আমরা ৭০ রানের কম দিয়েছি। যা একটি ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া শুরুর দিকে আমরা অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। এগুলো আসলে হয়। যদি আমরা দ্রুত উইকেট না দিতাম, তাহলে হয়তো অন্য কিছু হতে পারতো। সাব্বির ও মুশফিকের জুটি যদি আরো বড়ো হতো, তাহলে আরো ভালো হতো। আমি বিশ্বাস করি আমাদের কামব্যাক করার ক্ষমতা আছে। ইনশাল্লাহ আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।’
ব্যাটিং-বোলিং খারাপ করার পাশাপাশি এই দিনও চোখে পড়েছে উল্লেখযোগ্য ফিল্ডিং দুর্বলতা। বিশ্বকাপ থেকেই চলমান এই সমস্যা নিয়ে সুজন বলছিলেন, ‘ফিল্ডিংয়ের টেকনিক্যাল বিষয় তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। এটা নির্ভর করে ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিকতার ওপর, সম্পৃক্ততার ওপর। আমরা কাল কিছু মিস ফিল্ডিং করেছি। আমি বিশ্বাস করি যেমন ফিল্ডিং করেছি, তার চেয়ে ভালো আমরা করতে পারি বলে বিশ্বাস করি।’
তবে এসব ভুলে গিয়ে সুজনরা এখন সামনের দিকে তাকাতে চান। আজকের ম্যাচটাকেই বলছিলেন তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, ‘প্রথম ম্যাচ হারার পর কাজটা কঠিন, কিন্তু যদি আমরা কাল জিতি, তাহলে বিষয়টি অন্য রকম হবে। নেক্সট ম্যাচটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা কঠিন প্রতিপক্ষ, তবে তাদের হারানো যাবে না, তাও না।’