বৈরি আবহাওয়া ও মাকড়ের আক্রমণে পশ্চিমের জেলাগুলোতে মরিচের ফুল নষ্ঠ হওয়ায় কাঁচা মরিচের উত্পাদন ব্যাপক কমে গেছে। এতে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম চড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলা দেশের অন্যতম কাঁচা মরিচ উত্পাদনকারী এলাকা। খরিপ - ১ মৌসুমে যশোরে ৬’শ ৬৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১৫’শ ৭০ হেক্টরে, মাগুরায় ৬’শ ৯৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ১৩’শ ৪৯ হেক্টরে, মেহেরপুরে ৪ হাজার ২’শ ৮০ হেক্টরে ও কুষ্টিয়ায দু হাজার ৭৫ হেক্টরে মরিচের চাষ হয়। এসব জেলাগুলোতে প্রচুর মরিচ উত্পাদন হয়ে থাকে। বিভিন্ন স্থানে বসা সবজির পাইকারি বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা মরিচ উঠে থাকে। দেশের নানা স্থান থেকে আনা ব্যাপারীরা কাঁচা মরিচ কিনে বস্তায় ভরে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে চালান নিয়ে যায়। মে জুন মাসে ক্ষেতে প্রচুর কাঁচা মরিচ ধরে। দামও একেবারেই পড়ে যায়। কোন কোন সবজি বাজারে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
শৈলকুপা উপজেলার গোরিন্দপুর গ্রামের রিপন শেখ জানান, তারা চার ভাই অনেক দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছে। খরিপ-১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে, গাছ মরে যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে পাইকারী প্রতি কেজি মরচি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তখন ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর লাভ থকতো না। বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচ গাছ মরে যায়। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচ গাছে ফুল ফল কম ধরে। এতে মরিচের উত্পাদন কমে যায়। দাম চড়ে যায়।
মেহরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলকায় গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচ গাছের ফুল ফল নষ্ঠ হয়ে উত্পাদন কমে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারী একশ’ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, এ জেলাতে্ও রোদ ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচের উত্পাদন কমে গেছে। নতুন চাষ করা মরিচ উঠলে দাম পড়ে যাবে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক সুরেন্দ্র শেখর মালাকার জানান, খরিপ - ১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচের ফুল ফল নষ্ঠ হওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে। বৃষ্টি হলে মরিচের উত্পাদন রেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বাংলাদেশে কাঁচা মরিচের দাম চড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানী হচ্ছে।
কৃষি অধিদপ্তরের বেনাপোল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ রোগতত্ববিদ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৩৬ টন ২৫০ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। প্রতি দিনই আমদানি হচ্ছে। গতকাল শনিবার আমদানি হয়েছে সাড়ে চার টন। প্রতি টনের আমদানি মূল্য দুশো ৮৭ ডলার।