কারেন্ট জাল বা ছোটো ফাসের জাল নিষিদ্ধ হলেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঘরে কারেন্ট জাল বুনতে দেখা গেছে। নির্দিষ্ট কোনো মৌসুম নয় বরং সারা বছরের জন্যই কারেন্ট জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঘরে নিয়মিত কারেন্ট জাল তৈরি করা হলেও তা থামাতে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে কারেন্ট জাল বুনছে যারা তাদের বেশিরভাগই মহিলা ও কিশোর-কিশোরী। কারেন্ট জালের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই। তারা বাজার থেকে কারেন্ট জাল বুনার সুতা কিনে একের পর এক কারেন্ট জাল তৈরি করে যাচ্ছে। নিজেদের ব্যবহারে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিক্রির জন্যও তারা এ কারেন্ট জাল বুনেন বলে আলাপকালে তারা জানান।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের চারদিকেই নদী। বর্ষায় চরাঞ্চলে কারেন্ট জালের ব্যবহার হলেও নদীতে সারা বছরই কারেন্ট জালের ব্যবহার হয়ে থাকে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নদীতে মাছ ধরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকে ঠিক তখনও চুরি করে কারেন্ট জালের ব্যবহার হয়। কারেন্ট জালের এ রকম অবাধ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ধ্বংস নির্বিচারে হচ্ছে ।
মতলব উত্তর উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো নদীর পাড়ে নির্মিত। ১৩০ পরিবারের এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ বসতিই মত্স্যজীবী। তাই এখানে প্রায় পরিবারই কারেন্ট জাল ব্যবহার ও বিক্রির জন্য বুনে থাকেন। উপজেলার অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও বড়ো একটি অংশ মত্স্যজীবী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্প ব্যতীত অন্যান্য উপজেলার আরো ৮টি আশ্রয়ণ প্রকল্পেও নিজেদের ব্যবহার ও বিক্রির জন্য কারেন্ট জালের সুতা সংগ্রহ করে কারেন্ট জাল বুনা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মহিলাদের কারেন্ট জাল বুনতে দেখেছি। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। ভবিষ্যতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।