প্রাইভেটকারে যাত্রী বহনের নামে সক্রিয় ছিনতাই চক্র

পুলিশের এসআই কেএম নূর-ই আলম গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় যাওয়ার জন্য মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় তার সামনে। ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে উঠেন ওই গাড়িতে। উঠামাত্রই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় তাকে। তার কাছ থেকে একটি এলইডি টিভি, একটি মোবাইল ফোন, ইউনিফর্ম ও নগদ তিন হাজার টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। চার জন তাকে মাঝখানে বসিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। তার এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় বেধড়ক মারপিট করা হয়। মালামাল লুট করার পর মারধর করে এক পর্যায়ে হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তার মতোই মাঝেমধ্যেই এই ধরনের ছিনতাইকারীদের হাতে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেক সাধারণ মানুষ।

ঐ ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতায় এসআই নূর-ই আলমকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারীরা হলো- বজলু আলমগীর, মাসুম বিল্লাহ, মুক্তার হোসেন ও  মো. আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহূত প্রাইভেটকার (ঢাকা-মেট্রো-গ-১৪-৪৫৮৫), চাকু, লাঠি ও রড জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ছিনতাইয়ের মালামালও।

গতকাল শনিবার দুপুরে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম বলেন, প্রাইভেটকারে ভাড়ায় যাত্রী বহনের নামে একটি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। আগে থেকে যাত্রীবেশে কয়েকজন ছিনতাইকারী বসে থাকে। কিছু না বুঝে প্রাইভেটকারে উঠামাত্র অস্ত্রের মুখে জিম্মির পর টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

মাহবুব আলম বলেন, রাজধানীর খিলক্ষেত, মহাখালী, হাতিরঝিল এলাকায় এ চক্রের সদস্যরা সক্রিয়। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু ছিনতাই নয়, গত এক মাসে অর্ধশতাধিক ডাকাত দলের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত এক মাসেই ডিএমপির বিভিন্ন থানায় দুই শতাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা হয়েছে।