পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দুর্গম বাঘাছড়ির সাজেক ভ্যালি যেন প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। বছরের পর বছর লাখো পর্যটক ছুটে যান সেখানে, পাহাড়-মেঘ-সূর্যাস্তের মেলবন্ধন দেখতে ভীড় করে পর্যটকরা। কিন্তু যদি সেই সৌন্দর্যই পাওয়া যায় জেলা সদরের কাছাকাছি, সময় ও শ্রম বাঁচিয়ে... ঠিক এমনই এক সম্ভাবনাময় অপার সৌন্দর্যের নাম- ‘ফুরোমন পাহাড়’।
চাকমা ভাষায় ‘ফুরোমন’ শব্দের অর্থ ‘ফুরফুরে’। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পাহাড়ে উঠলেই মন ফুরফুরে হয়ে যায়। তাই নামকরণ করা হয়েছে ‘ফুরোমন পাহাড়’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু এই পাহাড়টি সাফছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি এলাকায় অবস্থিত। এই পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১,৫১৮ ফুট। তবে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে পার হতে হবে প্রায় চারশো সিঁড়ি।
পাহাড়ে উঠলেই চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ, কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি, সোনালি বৌদ্ধমূর্তি, আর শীতল বাতাসে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপার দৃশ্য। দক্ষিণ-পশ্চিমে দেখা যায় চট্টগ্রাম শহর, বন্দরের ভাসমান জাহাজের মাস্তুল, রাঙামাটির রাঙা রূপ। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ফুটে থাকা অজানা ফুল মনকে পুলকিত করে তোলে। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় - মেঘের লুকোচুরি খেলা। সাজেকের মতোই এখানে সূর্যোদয়ের আগে পৌঁছালে দেখা মিলবে মেঘের উপত্যকা।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম থেকে মোটরসাইকেলের একটি বহর নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। ‘ফুরোমন পাহাড়’ দেখে আমার মনে হয়েছে এটা সাজেকের আরেক রূপ। যদি স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে এটি সাজেকের বিকল্প পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
তার সফরসঙ্গী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সেই ভোরে আমরা পাহাড়ে উঠেছি। এমন রূপ দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। মেঘের লুকোচুরি, স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদ থেকে মনটা ভরে গেল।’
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি আশফাক আহমেদ এবং নিপুন আক্তার বলেন, ‘আমরা মুগ্ধ নয়নে ফুরোমনের সৌন্দর্য দেখেছি। এখানে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো গেলে এবং পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে পারলে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে স্থান করে নিবে।’
এছাড়াও জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুরোমন পাহাড়কে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে রাঙামাটির পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও পর্যটন বিষয়ক আহবায়ক মো. হাবিব আজম বলেন, ‘আপাতত ‘‘ফুরোমন পাহাড়’’ কেন্দ্রিক পর্যটন স্পট গড়ে তোলার ব্যাপারে জেলা পরিষদের বর্তমানে কোন বাজেট নেই। তবে ভবিষ্যতে চিন্তা-ভাবনা আছে সেখানে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার। পুরো রাঙামাটি জুড়ে পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে জেলা পরিষদ কাজ করছেন।’
যেভাবে যাবেন ‘ফুরোমন পাহাড়’: ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে রাঙামাটিগামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস পাওয়া যায়। সকাল ৮টা থেকে ৯টা এবং রাত ৮:৩০ থেকে ১১টার মধ্যে সব বাস রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রাঙামাটি শহর থেকে খুব ভোরে সিএনজি করে যেতে হবে সাফছড়ি শালবাগান পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত। সেখান থেকে বড় সাইনবোর্ডে লেখা বৌদ্ধমূর্তি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে পৌঁছাতে হবে ‘ফুরোমন পাহাড়ে’।