রাজৈরে ভাঙছে কুমার নদ

অবৈধ বালু উত্তোলন, স্রোত ও ট্রলার চলাচলে ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে কুমার নদের পাড়, গৃহহারা হয়ে কাঁদছে নদের পাড়ের মানুষ। এ বর্ষা মৌসুমে ইতিমধ্যেই দুইটি গ্রামের ১২ বাড়ি ভেঙে পড়েছে নদীর গর্ভে।  আরো শতাধিক বাড়িঘর রয়েছে ঝুঁকির মুখে। 

এ চিত্র মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কুমার নদের পাড়ে বসবাসকারী চারটি ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের। এ ছাড়াও প্রায় ২০০ পরিবার বাড়িঘর হারানোর শঙ্কা নিয়ে বসবাস করছে।

এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে বড়ো ও ছোটো ড্রেজার মেশিন দিয়ে সারা বছর ধরে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা করে লাভবান হয়ে আসছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কুফল ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষকেরা। জমি ও বাড়িঘর হারিয়ে ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে অনেকেই।

শংকরদী গ্রামের এমারত ফকির বলেন, এ বছর আমার বাড়িসহ চারটি পরিবারের বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেল। এখন আমি কীভাবে বাঁচবো এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই কীভাবে বানাবো।

চরমস্তফাপুর গ্রামের হায়দার হাওলাদার জানান, চরমস্তফাপুর বাজারসহ মসজিদ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মল্লিককান্দি শাখারপাড় গ্রামের হাসান মাতুব্বর জানান, গত বছরেও বাড়িঘর ভেঙেছে, এ বছরও ভয়াবহরূপে ভাঙছে। এবছর যেভাবে বালু কাটা হচ্ছে তাতে আগামী বছর আরো বহু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হবে।

মেবানকাান্দির লাবলু মুন্সী জানান, তার ৩৩ শতক জায়গায় রোপিত গাছ বাগান, আলমগীরের বাড়ির তিনটি ঘর নদী খেয়ে ফেলেছে।

কালীবাড়ি এলাকার কালাম মাতুব্বর জানান, বিশ্বাম্বরদী, নিলাম্বরদী,  মহেন্দ্রদী, হরিদাসদী, মল্লিককান্দি, গাংকান্দি, শংকরদী, কালীবাড়ি, হরিদাসদী, চরমস্তফাপুর বাজার এলাকা ব্যাপকভাবে ভাঙছে।

গোয়ালবাথান এলাকার বায়েজিদ মেম্বর জানান, ইতিপূর্বে টেকেরহাট-হরিদাসদী রাস্তার গোয়ালবাথান নামক স্থানটি একরাতেই ধসে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক বছর পার হলেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। এবছরও আবার ভাঙছে। নদীতে পানি টান দিলে (কমলে) আরো ব্যাপক ভাঙন দেখা দেবে।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলাধীন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ছাগলছিড়া এলাকায় পায়রা প্রজেক্ট ৪০০ কেভি বিদ্যুত্ গ্রীড স্টেশন নির্মাণে ৬০ একর জমি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় ভরাট করার জন্য সাড়ে চার কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে এ নদী থেকেই।

এ ব্যাপারে ইশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফায়েজুর রহমান হিরু জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউএনও চেষ্টা করছেন, আমিও চেষ্টা করছি। শিগগির বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাবে।