বাংলাদেশের বিপক্ষে একসময় তার লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই দেশটির বিপক্ষে কয়েকটি টেস্ট ও ওয়ানডে এক হাতে জিতিয়ে নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের তীব্র লড়াই ছিল সেরা বাহাতি স্পিনার হওয়ার জন্য। অবশেষে সেই বাংলাদেশের উন্নতিতে হাত লাগাতে যাচ্ছেন ড্যানিয়েল ভেটোরি। আর এই খবর প্রকাশের পর ভেট্টোরি বলেছেন, সাকিবদের সাথে যে কাজ করতে পারবেন, এই সম্ভাবনায় তিনি উচ্ছ্বসিত।
সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক সময়ের বিশ্বসেরা এই স্পিনার ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্পিনারদের সাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। তবে তিনি একটানা কাজ করবেন না। এই বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে কাজ শুরু করবেন ভেট্টোরি। সেই থেকে বিভিন্ন ধাপে ১০০ দিন কাজ করবেন বাংলাদেশি স্পিনারদের নিয়ে।
ভেট্টোরির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলার চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট। তিনি অবশ্য পূর্ণকালীন কোচ হিসেবেই কাজ করবেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করা ভেট্টোরি ২০১৫ সালে এই ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। এরপর তিনি ছিলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর প্রধান কোচ। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ দল ব্রিসবেন হিটের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
বিসিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কিংবদন্তি স্পিনারকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। ভেট্টোরি বলছিলেন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে পেরে রোমাঞ্চিত, ‘আমি অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে লক্ষ্য করি। এই দেশটিতে সফর করার অসাধারণ কিছু স্মৃতি আছে আমার। এই দলটা এখন উত্থানপর্বে আছে। দলে অনেক অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা আছে। সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামের মতো খেলোয়াড় এবং উঠতি তরুণদের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য আনন্দের একটা ব্যাপার হবে। আমি খুব আগ্রহের সঙ্গে এই কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’
ভেট্টোরি তার অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে স্পিন নির্ভর একটি দল। এই দলের সঙ্গে স্পিনার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাটা ভাগাভাগি করে নিতে চান তিনি, ‘স্পিন বোলিং ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা। আমি আশা করি একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আধুনিক ক্রিকেটে এবং বিভিন্ন সংস্করণে একজন স্পিনারের কাছে কি চাহিদা থাকে, সেই অভিজ্ঞতা আমি তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারব। আমি চেষ্টা করব খেলোয়াড়দেরকে আরো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নিজের প্রতিভা স্কিল বাড়িয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য।’
ভেট্টোরির মতো স্বল্প সময়ের জন্য নয়, লম্বা সময়ের জন্য আসছেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। ৪৪ বছর বয়সি এই পেসার ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আফগানিস্তান দলের বোলিং কোচ ছিলেন। এর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের ফাস্ট বোলিং বিশেষজ্ঞ কোচ ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে ফাস্ট বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।